খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার মোহাম্মদপুর বড়ঝলা এলাকায় ধলিয়া খালের ওপর স্থায়ী সেতুর অভাবে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগে রয়েছেন ১০ থেকে ১২টি গ্রামের প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ। হাসপাতাল সড়ক সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত নড়বড়ে কাঠের ঝুলন্ত সেতুই তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারীসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন।
প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে খালের পানি বেড়ে গেলে সেতুটি ভেসে যায় বা পানির নিচে তলিয়ে থাকে। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে পুনরায় মেরামত করা হলেও কয়েকদিন পর আবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক সময় সেতুর পাটাতন দেবে গিয়ে শিশু ও বয়স্করা পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে ওপারের মানুষ বাজারে আসতে পারেন না, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপণ্য সংগ্রহেও চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
মোহাম্মদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আব্দুল হাই ভূইয়া বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল করছি। বর্ষা এলেই সেতু ভেসে যায় বা পানির নিচে চলে যায়। অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়া, শিশুদের স্কুলে পাঠানো সবকিছুই তখন বন্ধ হয়ে যায়। আমরা একটি স্থায়ী সেতু চাই।’
তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া সুমাইয়া বলেছে, ‘সেতুর উপর দিয়ে হাঁটলে সেতুটি দুলতে থাকে। আমাদের ভয় হয়। বেশি বৃষ্টি হলে খালের পানি বেড়ে গেলে আমরা আর স্কুলে যেতে পারি না। একটি পাকা ব্রীজ করে দিলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রেব্রেচাই মারমা বলেন, ‘নির্বাচনের সময় সবাই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেন না। বর্ষাকালে বাজারে যেতে না পেরে অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। আমাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। মোহাম্মদপুর, রসুলপুর, বড়ঝলা, ছনখোলা পাড়া, আটবাড়ি, তৈকাতান, মিস্ত্রিপাড়াসহ আশপাশের ১০-১২টি গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল কাজল বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে অনেকেই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আমাদের প্রিয় নেতা খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া নির্বাচনি প্রচারণার সময় এই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। খালের ওপারে পাহাড়ি-বাঙালিসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আশা করছি, খুব শীঘ্রই স্থায়ী সেতুর কাজ শুরু হবে।’
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, ‘ধলিয়া খালের ওপর ঝুলন্ত সেতু দিয়ে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। নদীর ওপারের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’
ঝুঁকিপূর্ণ নড়বড়ে সেতুর বিপরীতে থাকা মানুষের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে ধলিয়া খালের ওপর একটি টেকসই স্থায়ী সেতু এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাজারও মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সময়ের আলো/মহু