সরকারি বরাদ্দের চেয়ে সার চাহিদা কয়েকগুণ বেশি

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য উদ্বৃত্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। উর্বর মাটি ও কৃষি ব্যবস্থার কারণে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় এখানে বেশি খাদ্যশস্য

2026-09-24T10:36:01+00:00
2026-09-24T10:36:01+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সরকারি বরাদ্দের চেয়ে সার চাহিদা কয়েকগুণ বেশি
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম 
ছবি : সময়ের আলো
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য উদ্বৃত্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। উর্বর মাটি ও কৃষি ব্যবস্থার কারণে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় এখানে বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়। তবে সার প্রয়োগ ও চাহিদার হিসাব নিয়ে কৃষক ও কৃষি বিভাগের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে নন-ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে এ চিত্র বেশি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি কৃষক ও সার ব্যবসায়ীদের।

উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণ কমলেও বিভিন্ন ফসলের আবাদ বেড়েছে। রোপা আমন, বোরো ও আউশ ধানের পাশাপাশি আলু, সরিষা, কাঁচা মরিচ ও বিভিন্ন শাক-সবজি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। এর সঙ্গে বেড়েছে মৎস্য চাষও। ফলে কৃষকদের সারের চাহিদাও আগের তুলনায় বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কৃষি বিভাগের হিসাবে, ধান চাষে প্রতি বিঘায় গ্রানুলার ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—প্রতিটি সার ১০ কেজি করে এবং আলু চাষে প্রতিটি সার ২০ কেজি করে প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই প্রয়োগবিধি অনুযায়ীই সরকারের কাছে সারের চাহিদা দেওয়া হয়।

তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা এর চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি সার ব্যবহার করেন বলে দাবি করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বিশেষ করে আলু চাষে কৃষি বিভাগের নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করেন না বলে জানান তারা। কৃষকদের দাবি, আলু চাষে প্রতি বিঘায় ১০০ কেজির কম সার ব্যবহার করা হয় না। ফলে কৃষি বিভাগের হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের চাহিদার পার্থক্য দাঁড়ায় প্রায় ৮০ কেজি।

এ ছাড়া কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা মরিচের জমিতে গাছ টিকিয়ে রাখতে প্রতি বিঘায় সপ্তাহে প্রায় ৫০ কেজি সার প্রয়োগ করতে হয়। এতে সারের প্রকৃত চাহিদা ও সরকারি বরাদ্দের মধ্যে পার্থক্য আরও বাড়ছে বলে দাবি তাদের।

কৃষকদের এই অতিরিক্ত চাহিদা সরকারি বরাদ্দে পূরণ হয় না বলে অভিযোগ সার ডিলার, খুচরা ডিলার ও ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, সরকারি বরাদ্দের সার শেষ হয়ে গেলে কৃষকের চাহিদা মেটাতে বড় মজুতদারদের কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়। ব্যবসায়ীরা এসব সারকে ‘বাইরের সার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের দাবি, দেশে বাজারজাত করা সব সারই ভর্তুকির আওতাভুক্ত। ‘বাইরের সার’ নামে আলাদা কোনো সার নেই।

স্থানীয় সার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মজুতদাররা বেশি দামে এসব সার ডিলার, খুচরা ডিলার ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। এ ধরনের কেনাবেচায় অনেক সময় কোনো রসিদ দেওয়া হয় না এবং কাগজপত্রেও এর প্রমাণ রাখা হয় না বলেও দাবি তাদের।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি বরাদ্দের সার শেষ হওয়ার পর কৃষকের চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনতে হয়। তাদের অভিযোগ, ডিএপি, টিএসপি ও দানাদার এমওপি সার সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়। এর মধ্যে প্রতি বস্তা ডিএপি প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকার কমে, টিএসপি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং দানাদার এমওপি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয় বলে দাবি তাদের।


সার ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, নিয়মিত ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ করতে না পারলে ব্যবসায়ীদের আগের বকেয়া আদায়েও সমস্যা হয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনে বিক্রি করতে হয়। তাদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের সার শেষ হওয়ার পর এই সুযোগ কাজে নেয় অবৈধ মজুতদারদের একটি সিন্ডিকেট।

অবৈধভাবে সার মজুতের উৎস সম্পর্কে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন বাফার গুদাম এলাকায় সরকারি বরাদ্দের ডিও কেনাবেচার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু অসাধু ডিলার তাদের বরাদ্দের সার মৌসুমের বাইরে কালোবাজারি মজুতদারদের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে মৌসুম ও পিক মৌসুমে সেই সার বেশি দামে বাজারে ছাড়া হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কৃষি বিভাগের বক্তব্য ভিন্ন। আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের আগের পরিপত্র অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের নতুন পরিপত্র বাস্তবায়ন হলে সারের হিসাবের এই গরমিল আর থাকবে না।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   সরকার  বরাদ্দ  চাহিদা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: