সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার ফয়জান আনসারি অভিযোগ করেছেন, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক একজন ‘পাকিস্তানি এজেন্ট’ এবং তাকে দ্রুত গ্রেফতার করা উচিত। এ নিয়ে তিনি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আনসারির দাবি, দীপকের লোকজন তাকে দুইবার হামলা করেছে— একবার পুনেতে এবং আরেকবার আওরঙ্গাবাদে। তিনি দিল্লি পুলিশের কাছে দীপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে আনসারি আরও দাবি করেছেন, অভিজিৎ দীপক ও তার সংগঠন বলিউডের কয়েকজন তারকাকে অর্থ দিয়ে আন্দোলনে সমর্থন জানাতে এবং দিল্লির যন্তর মন্তরে উপস্থিত হতে উৎসাহিত করেছেন।
তার অভিযোগ, অভিনেত্রী ও ইনফ্লুয়েন্সার উরফি জাভেদকে ১ লাখ টাকা এবং পুনম পান্ডেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে আন্দোলনের পক্ষে কথা বলার জন্য।
তবে উরফি জাভেদ ও পুনম পান্ডে— দুজনই এর আগে ওই যুব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। উরফি যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেননি, তবে মুম্বাইয়ে একই ধরনের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, পুনম পান্ডে ১৯ জুলাই যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান।
আনসারি আরও অভিযোগ করেছেন, দীপকে দেশের পরিবেশ নষ্ট করছেন এবং তাকে থামানো না হলে দেশে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার প্রশংসা করে আনসারি বলেন, তিনি সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে আটক করে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এর আগে, জলবায়ু কর্মী ও সিজেপির সঙ্গে যুক্ত সোনম ওয়াংচুককে ১৮ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ ও সরকার এটিকে হস্তক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও ওয়াংচুক ও সিজেপি দাবি করে, তাকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে।
পরে সিজেপির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরে তিনি পদত্যাগ করার পর সিজেপি তাদের দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ