জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেছেন বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি। নেতানিয়াহু মঞ্চে ওঠার সময় একের পর এক প্রতিনিধি কক্ষ ত্যাগ করেন। বাইরে ও কক্ষের ভেতরেও শোনা যায় প্রতিবাদী স্লোগান। নিউইয়র্কে নেতানিয়াহু বিরোধী বিক্ষোভে অভিনেত্রী সুসান সারান্ডনসহ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করার খবরও পাওয়া গেছে।
প্রতিনিধিদের এই ওয়াকআউটের পরও মঞ্চে উঠে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখনো যদি কোনো নৈতিক কাপুরুষ এই কক্ষে থেকে থাকেন, তাহলে দয়া করে বেরিয়ে যান।’ তার এই মন্তব্যের পর কক্ষে থাকা সমর্থকদের কাছ থেকে উল্লাসধ্বনিও শোনা যায়।
এরপর পুরো বক্তব্যজুড়েই ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই দেন নেতানিয়াহু। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার সিদ্ধান্তকে তিনি নিজের প্রধানমন্ত্রীত্বের ‘সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা না হলে ইসরায়েলসহ অন্য দেশগুলোও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ত।
নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের ফলে শুধু ইসরায়েল নয়, অন্য অনেক দেশও নিরাপদ হয়েছে। কিছু দেশের নেতা ব্যক্তিগতভাবে এ পদক্ষেপের জন্য ইসরায়েলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসব বক্তব্যের পর তিনি সমালোচকদের ‘ভণ্ড’ বলে আক্রমণ করেন।
গাজা যুদ্ধ ঘিরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যে এ ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। এ সময় জাতিসংঘের বাইরে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভও হয়। নিউইয়র্কে বিক্ষোভে অভিনেত্রী সুসান সারান্ডনসহ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করার খবরও পাওয়া গেছে।
ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, গত তিন বছর ইসরায়েল একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে। হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতি, ইরান এবং ইরাক ও সিরিয়ার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, এসব শক্তি ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল; কিন্তু তারা সফল হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্যও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। ইরানে বেসামরিক মানুষের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, সমালোচকেরা তখন কোথায় ছিলেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অধিবেশনে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। মামদানি আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তার উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, তাকে নিউইয়র্কে আসা থেকে ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তাকে নীরব করা সম্ভব নয়।
এদিকে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় কক্ষের অনেক আসন ফাঁকা ছিল। এই ওয়াকআউটকে তার সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমালোচনার একটি প্রকাশ্য চিত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সময়ে গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ ও ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানও আলোচনায় রয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি