নেত্রকোনার বারহাট্টায় মসজিদের ইমামের বেতন নিয়ে মন্তব্য করায় সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুজনের মাথা ন্যাড়া করা হয়। এরপর তাদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা।
বারহাট্টা থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চম্পক দাম মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, রোববার (২ আগস্ট) রাতে বারহাট্টা থানায় উপজেলার মধুপুর গ্রামের মো. মোমিন খান (৫৫) বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের হেলোচিয়া বাজারে একটি চায়ের দোকানে কতিপয় লোক স্থানীয় মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা মর্তুজ মিয়া বলেন, ‘হুজুরদের ভেতরে লোভ ঢুকছে।’ এর জবাবে মোমিন খান বলেন, ‘মসজিদ-মাদরাসার ভেতরে শয়তান ঢ়ুকছে।’ এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ২৯ জুলাই সকালে স্থানীয় মধুপুর গ্রামের আল-আরাফা মিফতাহুল উলুম তামিরুল মিল্লাত মাদরাসা মাঠে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চান ভুক্তভোগীরা। তারপরও শাস্তি হিসেবে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মোমিন খান। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বী উজ্জ্বল সরকারের মাথাও ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, উজ্জ্বল কোনো মন্তব্য করেননি, শুধু তার পাশে বসে চা পান করছিলেন। মোমিন খান আরও অভিযোগ করেন, সালিশ শেষে অভিযুক্তরা তার বাড়িতে গিয়ে ‘কল্লা কেটে নেওয়া হবে’ বলে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এ বিষয়ে সালিশকারী ও মাদরাসা শিক্ষক আলী আহমেদ বলেন, ‘মসজিদের বিষয় নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উঠলে স্থানীয় যুবকদের আবেদনের ভিত্তিতে সালিশ বসেছিল। সালিশে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’ তবে, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
ওসি চম্পক দাম বলেন, ‘এ ঘটনায় মোমিন খান বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।’
সময়ের আলো/মহু