জনবল ও ওষুধ সংকটে শেরপুর জেলা হাসপাতাল, ভোগান্তিতে রোগীরা

শেরপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

শয্যা বাড়লেও বাড়েনি জনবল। প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট, চিকিৎসকের স্বল্পতা, দালালের দৌরাত্ম্য, মাদকসেবী ও চোরের উপদ্রব- এসব নানা সমস্যায় জর্জরিত শেরপুর

2026-09-23T14:46:28+00:00
2026-09-23T15:04:17+00:00
 
  বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
জনবল ও ওষুধ সংকটে শেরপুর জেলা হাসপাতাল, ভোগান্তিতে রোগীরা
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৬ পিএম  আপডেট: ২৩.০৯.২০২৬ ৩:০৪ পিএম
শেরপুর জেলা হাসপাতাল। ছবি : সময়ের আলো
শয্যা বাড়লেও বাড়েনি জনবল। প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট, চিকিৎসকের স্বল্পতা, দালালের দৌরাত্ম্য, মাদকসেবী ও চোরের উপদ্রব- এসব নানা সমস্যায় জর্জরিত শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বিপুলসংখ্যক রোগীকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসক পদ রয়েছে ৮৬টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৯ জন। অর্থাৎ চিকিৎসকের ৫৭টি পদই শূন্য। চিকিৎসকদের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ৬৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২৬ জন। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল জনবল দিয়েই চলছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।

২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, শেরপুর জেলার জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। জেলার পাঁচটি উপজেলা ছাড়াও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, জামালপুরের ইসলামপুর ও বকশিগঞ্জের একাংশের মানুষ চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন রোগীর চাপও থাকে বেশি।
হাসপাতালের তথ্যমতে, প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ জন এবং জরুরি বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্তর্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা।

রোগীদের অভিযোগ, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসে প্রথমেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এরপর চিকিৎসকের অপেক্ষায় থাকতে হয় আরও দীর্ঘ সময়। চিকিৎসাপত্র হাতে পাওয়ার পর হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ কেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে অনেককেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

শুধু জনবল ও ওষুধ সংকটই নয়, হাসপাতাল ঘিরে দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা বাইরে থেকে ওষুধ কেনার জন্য প্রভাবিত করার অভিযোগও পাওয়া যায়। পাশাপাশি হাসপাতাল এলাকায় চোর ও মাদকসেবীদের উপদ্রব নিয়েও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

আরও বড় সংকট রয়েছে হাসপাতালের খাদ্য বা ডায়েট বরাদ্দে। কাগজে-কলমে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও ডায়েট বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ১০০ রোগীর জন্য। ফলে প্রকৃত রোগীর তুলনায় খাদ্য বরাদ্দের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। আবার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অনেক ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাওয়া যায় না। ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেও বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে চাহিদাপত্রও পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।


শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। রোগীদের ভোগান্তি কমাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রোগী ও স্বজনদের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত, ডায়েট বরাদ্দ ২৫০ শয্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং হাসপাতাল এলাকায় দালাল, চোর ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা এই হাসপাতালের অবকাঠামো ও শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হবে।

সময়ের আলো/এনএন

  বিষয়:   সংকট  শেরপুর জেলা হাসপাতাল  ভোগান্তি  রোগীরা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: