শেখ হাসিনার পতনের আগের ৭২ ঘণ্টা, যেভাবে বদলে যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে এক দফার সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। ৩

2026-08-05T11:04:56+00:00
2026-08-05T11:04:56+00:00
 
  বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬,
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
শেখ হাসিনার পতনের আগের ৭২ ঘণ্টা, যেভাবে বদলে যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৪ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে এক দফার সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। ৩ থেকে ৫ আগস্ট— এই ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বদলে যায় পরিস্থিতি। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, সহিংসতা, অসহযোগ কর্মসূচি, কারফিউ এবং শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার দেশত্যাগ—সব মিলিয়ে এই সময়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।

৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করে। সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু পদত্যাগ নয়, সরকারের বিরুদ্ধে বিচারও হতে হবে।

একই সমাবেশ থেকে ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়, যা পরে একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়।

সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানালেও সমন্বয়কেরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। একই দিনে বিএনপি সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানায়। অন্যদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।

৪ আগস্ট শুরু হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর আসে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার মোবাইলের ফোর-জি ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে ঢাকা মহানগরসহ বিভাগীয় শহর, জেলা সদর, পৌরসভা ও শিল্পাঞ্চলে কারফিউ জারি করে।

একই দিন শাহবাগের সমাবেশ থেকে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সমন্বয়কেরা দেশজুড়ে ছাত্র-জনতাকে ঢাকায় আসার আহ্বান জানান।

৫ আগস্ট ভোর থেকেই কারফিউ উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ ঢাকার বিভিন্ন সড়কে নেমে আসেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আন্দোলনকারীরা রাজধানীমুখী হতে থাকেন। একই সঙ্গে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ হয়ে যায়।

দিনের এক পর্যায়ে খবর ছড়িয়ে পড়ে, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছেন। পরে জানা যায়, তিনি সামরিক বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ভারতে যান।

দুপুরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে।

শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সেই রাতেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরদিন থেকে কারফিউ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সরকারি হিসাবে, কোটা আন্দোলন থেকে সরকার পতন পর্যন্ত সহিংসতায় ৮০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,৪০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


সময়ের আলো/কেএইচ



  বিষয়:   সময়ের আলো  শেখ হাসিনা  গণঅভ্যুত্থান 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: