গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন এখনো আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে গণভবন থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি হয়ে ভারতের দিল্লির হিন্দন বিমানঘাঁটি পর্যন্ত যাত্রায় কোন পাইলটরা দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তারা বর্তমানে কোথায় কর্মরত— এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়েও কৌতূহল রয়েছে সকলের। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, সশস্ত্র বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্বে ছত্রিশে জুলাইয়ের দিন যখন হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত রাজপথ, তখন ভরদুপুরে দেশের আকাশসীমা ছাড়ছেন শেখ হাসিনা। জনরোষ থেকে বাঁচতে সামরিক বিমানে পালিয়ে যাওয়ার সময় আকাশপথের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার যাত্রায় কেমন ছিল তার অভিব্যক্তি। বিমানে বসে সহযাত্রী, ক্রু কিংবা নিরাপত্তাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি কী বলেছিলেন। তাকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া কর্মকর্তারাই বা এখন কোথায়।
সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক গণমাধ্যম জানিয়েছে, গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে বহনকারী বিমানবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস এবং কো-পাইলট ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। হেলিকপ্টারটি বিকেল তিনটার দিকে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে অবতরণ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র এক গণমাধ্যমকে জানায়, দেশত্যাগের ঘটনার পর এয়ার কমোডর আব্বাসকে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। কোর্স শেষ করে দেশে ফিরে তিনি নিয়মিত দায়িত্বে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিমানবাহিনী সদর দফতরের এয়ার হেডকোয়ার্টার ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত।
অন্যদিকে হেলিকপ্টারের কো-পাইলট গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বাশার এয়ার বেইজে ওসি (অ্যাডমিন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক পরিবহণ বিমান প্রস্তুত ছিল। পরে শেখ হাসিনা সেখানে ওঠেন এবং ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
সূত্র জানায়, ওই পরিবহণ বিমানের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। বিমানটি ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।
নিরাপত্তাজনিত কৌশলের অংশ হিসেবে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। এছাড়া প্রচলিত রুটের পরিবর্তে বিকল্প পথ ব্যবহার করে বিমানটি ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। পরে কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর বিমানটি ক্রু ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে। পরবর্তীতে পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কোর্সে অংশ নিতে ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। বর্তমানে কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদফতরে কর্মরত।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ