ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা বর্তমানে ‘খুব কঠিন’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে তিনি বলেছেন, জনসমক্ষে না থাকলেও খামেনি ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, এই মুহূর্তে তার (মোজতবা খামেনি) সঙ্গে যোগাযোগ করা খুবই কঠিন। কিন্তু তারপরও তার উপস্থিতি আমাদের জন্য বড় ধরনের শক্তির উৎস, যা আমাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি। ওই হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন।
পেজেশকিয়ান জানান, খামেনি মূলত লিখিত বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। গত মাসে বাবার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
তবে এসব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, খামেনির সঙ্গে তার একাধিক ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে এবং তিনি সব সময় আন্তরিকতা ও যৌক্তিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
পেজেশকিয়ানের ভাষায়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে এবং তার একটি বিকৃত চিত্র তুলে ধরছে।
পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে মতবিরোধের খবর প্রকাশিত হচ্ছে।
ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১৪–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে একটি ‘চূড়ান্ত আলটিমেটাম’ দিয়েছেন এবং আলোচনা ও যুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ বাহিদির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, নীতিগত মতবিরোধের সময় পেজেশকিয়ান একাধিকবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। গত মে মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগেরও চেষ্টা করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে তার সরকারকে কার্যত দূরে রাখা হয়েছে।
চ্যানেল ১৪–এর দাবি, মোজতবা খামেনির সর্বশেষ অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি সামরিক নেতৃত্বের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। ফলে কৌশলগত নীতিনির্ধারণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ভূমিকা আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
তবে চ্যানেল ১৪–এর এসব দাবি সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/কেএইচ