ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আবুধাবি। সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেতানিয়াহু।
সোমবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর এক দিন আগে নেতানিয়াহুর গোপন সফরের খবর প্রকাশ্যে আসে। সপ্তাহান্তে আবুধাবিতে এ সফর করেন তিনি।
আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন। এর প্রায় এক মাস আগে নেতানিয়াহুর এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট তাকে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন—এমন প্রতিবেদন নিয়ে বিতর্ক চলছে।
ডব্লিউএএম জানিয়েছে, বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং তা আরও জোরদার ও উন্নত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমও বৈঠকের খবর প্রকাশ করেছিল।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ গত ৯ সেপ্টেম্বর জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার প্রায় ১০ দিন আগে শেখ মোহাম্মদ নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলেন। ওই সময় হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের দেওয়া হুমকির কথা জানিয়ে তিনি সম্ভাব্য ‘বড় চমক’ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ মোহাম্মদ এর আগে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকেও সতর্ক করেছিলেন।
তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর দাবি করেছে, হামলার আগে প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের কোনো তথ্য পাননি। পরদিন নেতানিয়াহু হারেৎজের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানান এবং প্রতিবেদনটিকে ‘মনগড়া’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেন।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি গত মে মাসে জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য ইরানি হামলা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সুরক্ষা দিতে সেখানে ইসরায়েল আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে।
এদিকে সপ্তাহান্তে নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের খবর প্রথম প্রকাশ করে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২। সোমবার শিন বেত জানায়, প্রতিবেদনটি নিয়ে তারা ইসরায়েলের সামরিক সেন্সরের কাছে অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমের পদ্ধতি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
নেসেট নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও চাপ রয়েছে। নির্বাচনে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি বলে জনমত জরিপের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ