প্রথমবার কক্ষপথে স্পেসএক্সের স্টারশিপ, স্থাপন করল ২৬ স্যাটেলাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের বিশালাকৃতির স্টারশিপ রকেট। সোমবারের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে কক্ষপথে ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইটও স্থাপন করেছে মহাকাশযানটি।

2026-09-29T09:52:43+00:00
2026-09-29T10:45:44+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
প্রথমবার কক্ষপথে স্পেসএক্সের স্টারশিপ, স্থাপন করল ২৬ স্যাটেলাইট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ এএম  আপডেট: ২৯.০৯.২০২৬ ১০:৪৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের বিশালাকৃতির স্টারশিপ রকেট। সোমবারের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে কক্ষপথে ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইটও স্থাপন করেছে মহাকাশযানটি। তবে একটি ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাত ঘণ্টা আগেই মিশন শেষ করা হয়।

টেক্সাসের স্টারবেস উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়। মিশনটি ১০ ঘণ্টা চলার কথা থাকলেও ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে তা প্রায় তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হয়।

উৎক্ষেপণের পর স্টারশিপের নিচের অংশের সুপার হেভি বুস্টার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মহাকাশযানটির তিনটি প্রধান ইঞ্জিনের একটি নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে স্পেসএক্স জানায়, এর ফলে স্টারশিপকে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হবে।

তবে প্রকৌশলীরা পর্যালোচনা করে জানান, অন্য ইঞ্জিন ব্যবহার করে কক্ষপথে পৌঁছানোর চেষ্টা করা সম্ভব। এরপর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে স্টারশিপকে কক্ষপথে পাঠানো হয় এবং সফলভাবেই সেটি কক্ষপথে পৌঁছে যায়।

কক্ষপথে পৌঁছানোর পর প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একে একে ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইট স্থাপন করে স্টারশিপ। এটিই স্টারশিপের প্রথম কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপনের ঘটনা।

স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ২৬টি স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইটই নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।

অ্যারোস্পেস প্রকৌশলী ডিন স্ল্যাডেন বলেন, সবগুলো স্যাটেলাইটকে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করতে পারা বড় সাফল্য। বিশেষ করে এটি স্টারশিপের প্রথম বাণিজ্যিক আয়ের মিশন হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেশি। তবে প্রকৌশলগত দিক থেকে মিশনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর সেটি মোকাবিলায় দলের সক্ষমতা।

স্টারশিপের আগের কয়েকটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটেও মহাকাশে ইঞ্জিন-সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। মহাকাশে মহাকাশযানটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের নির্ভরযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে নাসার নভোচারীদের চাঁদে নিয়ে যাওয়ার মিশনে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানও কক্ষপথে স্টারশিপকে পৌঁছে দেওয়া এবং পুরো প্রক্রিয়া নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার জন্য স্পেসএক্সকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মিশনের শেষ পর্যায়ে স্টারশিপের নিয়ন্ত্রিত অবতরণ প্রশান্ত মহাসাগরে সম্পন্ন হয়। সাগরের ওপর নামার সময় থ্রাস্টার ব্যবহার করে মহাকাশযানটি উল্লম্ব অবস্থায় ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর নাক ওপরের দিকে থাকা অবস্থায় সেটি পানিতে আঘাত করে।

পানিতে নামার সময় রকেটটির নিচের অংশে আগুন ধরে যায়। পরে মহাকাশযানটি একদিকে কাত হয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের আগুনের গোলা দেখা যায়। মিশনের পর মহাকাশযানটি সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল না।

স্টারশিপের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট দ্রুত উৎক্ষেপণ এবং নাসার চাঁদে মানুষ পাঠানোর মিশনে ব্যবহার করা। নতুন কোনো রকেটের জন্য কক্ষপথে পৌঁছানো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক ধাপ।

২০২৩ সাল থেকে স্টারশিপের আগের ১৩টি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটই কক্ষপথের নিচে সীমাবদ্ধ ছিল। প্রায় এক দশকের উন্নয়ন কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে স্পেসএক্স।

মাস্কের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে বছরে শত শত কিংবা হাজারো স্টারশিপ মিশন পরিচালনা করা। রোববার তিনি দাবি করেন, প্রতি ঘণ্টায় একটি করে স্টারশিপ উড্ডয়নের সক্ষমতা অর্জন করতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, সোমবার উৎক্ষেপণ করা স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইটগুলো আগের ভি২ মিনি স্যাটেলাইটের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ডেটা পরিচালনা করতে সক্ষম। স্টারশিপ নিয়মিত কার্যক্রমে গেলে প্রতি উৎক্ষেপণে ৬০টি করে ভি৩ স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির।


সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   সময়ের আলো  স্পেসএক্স  স্টারশিপ  ইলন মাস্ক  স্টারলিংক  মহাকাশ  রকেট উৎক্ষেপণ  কক্ষপথ  স্যাটেলাইট  নাসা 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: