দক্ষিণ কোরিয়ার সেনামুক্ত অঞ্চলে মাইন বিস্ফোরণে তিন সামরিক সদস্য গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার দিকে সন্দেহের তীর উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে সম্প্রতি পুঁতে রাখা উত্তর কোরিয়ার স্থলমাইন থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটতে পারে বলে জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানায়, জাতিসংঘ কমান্ডের সঙ্গে যৌথ তদন্তে বিস্ফোরণের স্থান, গর্তের ধরন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এবং আহতদের আঘাত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের ভাইস চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কওন দে-ওন বলেন, এসব তথ্য বিবেচনায় উত্তর কোরিয়ার স্থলমাইন থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে। বিস্ফোরণস্থলের প্রায় ১০ মিটার দূরে ভূমির আকৃতিতে পরিবর্তনও শনাক্ত হয়েছে। ওই এলাকায় উত্তর কোরিয়ার সেনারা সম্প্রতি মাইন পুঁতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সেনামুক্ত অঞ্চলের পশ্চিমাংশে বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সামরিক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী এই এলাকায় বিপুলসংখ্যক স্থলমাইন রয়েছে। ধারণা করা হয়, সেনামুক্ত অঞ্চল ও আশপাশে প্রায় ২০ লাখ মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে।
১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধ যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হলেও দুই দেশ এখনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেনি। ফলে দুই কোরিয়া প্রযুক্তিগতভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর সীমান্ত এলাকায় মাইন পাতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের তৎপরতা বাড়িয়েছে পিয়ংইয়ং।
কওন দে-ওন বলেন, তদন্তে উত্তর কোরিয়ার দায় নিশ্চিত হলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ‘উপযুক্ত ও সমপর্যায়ের ব্যবস্থা’ নেবে।
সূত্র : আল জাজিরা
সময়ের আলো/এমকে