ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে জুন মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো লেবাননে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের সময় ওই দুই সেনা নিহত হন। যদিও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আগেই তাদের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছিল।
ঘটনার পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায়। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের মানসৌরি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লেবাননে এটি ছিল প্রথম এমন সতর্কবার্তা। তবে এ বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইতালির রোমে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক চলছিল। গত ২৬ জুন হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়েই আলোচনা হচ্ছিল সেখানে।
চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সরে যাওয়ার কথা। এর বিনিময়ে ওইসব এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নেবে লেবাননের সেনাবাহিনী এবং হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। তবে মাঠপর্যায়ের নতুন সংঘাতের কারণে বুধবারের বৈঠক নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়। বৃহস্পতিবার আলোচনা আবার শুরু হবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার তেবনিন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, রাতে বুর্জ আল-শেমালি গ্রামেও হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া মানসৌরি ও মাজদাল জুন এলাকার ওপর গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গত ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর দুই দিন পর সীমান্ত পেরিয়ে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এরপরই ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর সর্বশেষ যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শত শত বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের ৪০ সেনা এবং তিন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
গত ২০ জুন থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি মোটামুটি বহাল থাকলেও ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে। একই সঙ্গে মাঝে মধ্যেই সেখানে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
রোমে চলমান আলোচনায় মূলত পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
গত মাসে প্রথম পরীক্ষামূলক এলাকায় এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে লেবাননের সেনাবাহিনী জাওতার আল-গারবিয়েহ শহরে প্রবেশ করে এবং কিছু বাসিন্দা বাড়িতে ফিরলেও অধিকাংশই নিজেদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে আবার এলাকা ছেড়ে চলে যান।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিকের ভাষ্য, লেবানন খিয়াম অথবা বিনতে জুবাইল শহরে পরবর্তী পরীক্ষামূলক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা সতর্ক করে বলেছেন, খুব দ্রুত নতুন এলাকা বাস্তবায়ন করলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সময়ের আলো/কেএইচ