পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলায়মান খান। তাদের দাবি, গত সাত মাস ধরে পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, কারা বিধি ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ইমরান খানের গ্রেপ্তারের তিন বছর পূর্তিতে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লন্ডনে অবস্থানরত দুই ছেলে বলেন, বাবার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তারা কোনো তথ্য পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তারা বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।
তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাসিম ও সুলায়মানের কাছে ওভারসিজ পাকিস্তানিদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইসিওপি) রয়েছে, ফলে তাদের ভিসার প্রয়োজন নেই। যদিও দুই ছেলে দাবি করেছেন, তাদের পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তা নবায়ন করা হয়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার অবিলম্বে পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত এবং একাকী আটক রাখার অবসান চেয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বলেছে, ইমরান খানকে সাত মাস ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে— এমন দাবি সঠিক নয়। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২১ মার্চ তিনি সর্বশেষ ছেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। কারাগারে তিনি নিয়মিত চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
সরকার আরও দাবি করেছে, ইমরান খানকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন বন্দির জন্য নির্মিত পৃথক সাত কক্ষের একটি কমপাউন্ডে রাখা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় আসবাব, স্যানিটেশন ও ব্যায়ামের সুবিধা রয়েছে।
২০২৩ সালে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসসহ একাধিক মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। তিনি ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) অভিযোগ করে আসছে, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সরকার অবশ্য এ অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে। গতকাল বুধবার ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে পিটিআই সমর্থকদের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সময়ের আলো, কেএইচ