চীনের হুমকি মোকাবিলায় সাঁজোয়া যানে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

চীনের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় বার্ষিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে সাঁজোয়া যানযোগে জরুরি কমান্ড সেন্টারে নেওয়া হয়েছে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে।

2026-08-06T13:56:03+00:00
2026-08-06T13:56:03+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
চীনের হুমকি মোকাবিলায় সাঁজোয়া যানে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৬ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
চীনের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় বার্ষিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে সাঁজোয়া যানযোগে জরুরি কমান্ড সেন্টারে নেওয়া হয়েছে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও সরকার কীভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, তা যাচাই করতেই এই মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার শুরু হওয়া ১০ দিনের হান কুয়াং সামরিক মহড়ায় প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে অংশ নেন লাই চিং-তে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় তার বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে সাঁজোয়া কর্মী পরিবহন যানে (এপিসি) ওঠার ছবি প্রকাশ করে।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ক্যারেন কুও জানান, লাই ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা অভিযান পরিচালনা এবং সরকারের কার্যক্রম সচল রাখার সক্ষমতা যাচাইয়ের মহড়ায় অংশ নেন।

তার ভাষ্য, এই অনুশীলনের মাধ্যমে কমান্ড কাঠামো, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতেও সরকার কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

তাইওয়ান সরকারের ‘ওয়ান চুন’ নামে পরিচিত এই পরিকল্পনার ইতিহাস শীতল যুদ্ধের সময় থেকে। যুদ্ধ বা বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে রাষ্ট্রপ্রধানকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তখনকার প্রেসিডেন্ট চিয়াং কাই-শেক এ পরিকল্পনা চালু করেন।

১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধে মাও সেতুংয়ের কমিউনিস্ট বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে চিয়াং কাই-শেকের সরকার তাইওয়ানে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি।

বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা করছে, যুদ্ধের সময় চীন দেশটির প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে তথাকথিত ‘ডিক্যাপিটেশন’ বা নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন করার অভিযান চালাতে পারে।

হান কুয়াং মহড়ায় তাইওয়ানের বিভিন্ন স্থানে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট লাই উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি আনপিং শ্রেণির জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সংযুক্ত করার মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন।

এ ছাড়া রাজধানী তাইপেতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশান বিমানবন্দরের কাছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তিয়ান-কুং-৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুকরণে পরিচালিত এ মহড়ায় অবরোধ মোকাবিলা, উপকূলীয় হামলা প্রতিরোধ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।

আগামী সপ্তাহে প্রথমবারের মতো মহড়ার অংশ হিসেবে মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়া হবে। জরুরি পরিস্থিতি বা চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের সময় সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থায় নাগরিকরা কীভাবে যোগাযোগ বজায় রাখবে, সেটিও পরীক্ষা করা হবে।

এদিকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার দ্বীপটির আশপাশে চীনের ১৪টি সামরিক বিমান ও ৯টি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

চীন প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আখ্যা দিয়ে তার আলোচনার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে লাইয়ের বক্তব্য, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল দ্বীপটির জনগণেরই রয়েছে।


সময়ের আলো/কেএইচ



  বিষয়:   সময়ের আলো  তাইওয়ান  চীন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: