ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে গুরুতর ঘাটতির তথ্য নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে ক্যাম্প ডেভিডে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্প হেগসেথকে বলেন, তিনি ভেবেছিলেন অস্ত্রের ঘাটতির সমস্যা আগেই সমাধান হবে। এ বিষয়ে তাকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের এই সংকটই গত সপ্তাহান্তে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’ থেকে সরে আসার অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে এ দাবি তাৎক্ষণিকভাবে অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এমন ঘটনা কখনোই ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, পিট হেগসেথকে ছোট করার উদ্দেশ্যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভিত্তিহীন গল্প বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়েছে। বাস্তবতা হলো, প্রেসিডেন্ট হেগসেথকে পছন্দ করেন এবং তিনি মনে করেন, তিনি অসাধারণ কাজ করছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের উচ্চ-নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরো মজুদই ব্যবহার করে ফেলেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দূর থেকে নির্ভুলভাবে হামলা চালাতে ব্যবহৃত হয় এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রথম মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এক হাজারের বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর এবং অন্তত ১ হাজার ৩০০টি ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
এদিকে অস্ত্রের মজুদ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের এক বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে বেশি অস্ত্র রয়েছে, এমনকি আমাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ গতিতে অস্ত্র উৎপাদন করছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কারখানা ও সরঞ্জামে রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
অস্ত্রের এই ঘাটতির প্রভাব শুধু ইরান যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনে বহুল ব্যবহৃত স্বল্পপাল্লার এটিএসিএএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের যুক্তরাষ্ট্রের মজুদও প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
এ ছাড়া ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৬৫ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। ফলে ইউক্রেনকে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট সরবরাহে ওয়াশিংটন অনীহা দেখাচ্ছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের প্রযুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতির খবরও অস্বীকার করেন।
এদিকে বুধবার কিয়েভে রাশিয়ার প্রাণঘাতী হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রাশিয়াকে আরও বেশি হামলা চালাতে উৎসাহিত করছে। তার ভাষায়, ইউক্রেনের মানুষের জীবন প্রতিদিনই ইউরোপ ও আমেরিকার অংশীদারদের দৃঢ় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সময়ের আলো/কেএইচ