বাগেরহাটে একদিনের ব্যবধানে ডোবা ও মাছের ঘের থেকে অজ্ঞাত এক নারী (৩৫) এবং এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে দুটি মরদেহেরই ময়নাতদন্ত বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের জাফরের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই নারীর পরনে পায়জামা ও ম্যাক্সি ছিল। মরদেহে পচন ধরেছে। পুলিশের ধারণা, ৫ থেকে ৬ দিন আগে কেউ তাকে হত্যা করে পরিকল্পিতভাবে ওই পুকুরে ফেলে গেছে। পুকুরটি অব্যবহৃত থাকায় দুর্বৃত্তরা এটিকে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছিল।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আরেফিন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তে দেশের সব থানায় বেতার বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
অন্যদিকে, জেলার মোল্লাহাট উপজেলার কোদালিয়া এলাকা থেকে জান্নাতি আক্তার (১৪) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জান্নাতির বাবা সৌদি প্রবাসী এবং মায়ের অন্যত্র বিয়ে হওয়ায় সে চাচার বাড়িতে দাদির কাছে থাকত।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে জান্নাতি মাছের ঘেরের পাড়ে তাল কুড়াতে যায়। এরপর দুপুরেও ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ঘেরের পাড়েই তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরে তড়িঘড়ি করে দাফনের প্রস্তুতি নিলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক জানান, কিশোরীর মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
সময়ের আলো/জোই