চট্টগ্রামে নগরীর বন্দর থানা ও খুলশি থানা এলাকায় পৃথক ঘটনায় ছুরিকঘাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে হালিশহরে পারিবারিক কলহের জেরে সানজু বিবি (৩৫) নামে গৃহবধূ ছুরিকাঘাতে খুন হয়। অনলাইন জুয়ায় আসক্ত স্বামী জাবেদর (৪২) উপর্যুপরী ছুরিকঘাতে তিনি নিহত হন। অপরদিকে চাঁদা দাবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুলশি এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন সবজি বিক্রেতা হৃদয় (১৬)। সানজু বিবি খুনে জড়িত জাবেদ ও হৃদয় খুনে জড়িত কামরুল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বন্দর থানাধীন আদর্শপাড়া এলাকায় স্বামীর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে খুন হয় সানজু বিবি। খুনের দুই ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিসহ অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ জাবেদকে আটক করে এসআরবি-৭ এর একটি টিম।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সানজু বিবি ও তার স্বামী মোহাম্মদ জাবেদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জাবেদ স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার হুমকি দেন। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে স্বামীর ছুরিতে খুন হন সানজু বিবি।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানায়, বুধবার সকালে সানজু বিবিকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। বোনের ছেলে ফোনে প্রথমে খুনের ঘটনা তাদের জানায়। খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় বোনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চমেকে নিয়ে আসার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, বুধবার সকালে স্বামীর হাতে খুন হন সানজু বিবি। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। একই সময় এসআরবি-৭ এর একটি টিম অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে স্বামীকে করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বামী জাবেদ ছিল অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। অনলাইন জুয়ায়া হেরে সারারাত বাইরে থেকে বুধবার সকালে ঘরে ফিরে। এ সময় জাবেদের সাথে স্ত্রীর ব্যাপক তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের ঘটনার খবর পেয়ে এসআরবির টিম অভিযানে নামে। পরে অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে নগরীর খুলশী থানা এলাকায় এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নগরীর পাহাড়তলী ওয়্যারলেস কলোনির চার নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে। পেশায় সবজি বিক্রেতা নিহত হৃদয়ের বয়স আনুমানিক ১৬ বছর। ওই এলাকায় তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাবার সঙ্গে সড়কের পাশে ফুটপাতে সবজি বিক্রি করত হৃদয়। সেখানেই তাদের বাসা।
খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিম বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে। মঙ্গলবার রাতে বাসায় ভাত খাওয়ার সময় পরিচিত এক যুবক হৃদয়কে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা হৃদয়কে ছুরিকাঘাতের খবর পান। হৃদয়কে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে সবজির দোকান থেকে চাঁদাবাজি ও সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের একটি ঘটনার জেরে খুনের ঘটনা ঘটে। তারপরও খুনের বিভিন্ন দিক যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।
এলাকার লোকজন জানায়, স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় এক নেতা ওয়্যারলেস কলোনিসহ আশপাশের এলাকার ফুটপাতে দোকান বসিয়ে নিয়মিত চাঁদা তোলেন। ভাড়ার নামে দোকানিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের ওই নেতার পক্ষে টাকা আদায়ে জড়িত কিছু যুবক। খুনের শিকার হৃদয় ও তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাবা ফুটপাতে সবজির দোকান করতেন। দোকান থেকে টাকা আদায়কারীদের সঙ্গে কয়েকদিন আগে হৃদয়ের ঝগড়া হয়। মঙ্গলবার রাতে বিরোধ মিমাংসার কথা বলে হৃদয়কে স্থানীয় ওই নেতার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথে তাকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়।
সময়ের আলো/এনএন