আদমদীঘিতে নীরব কর্তৃপক্ষ, জলমহাল ইজারার ১২ লাখ টাকা উধাও

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চলতি বছরে জলমহাল ইজারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ১ম ও ২য় দফায় ডিসিআর ও চুক্তিনামা ফি বাবদ ১২ লাখ

2026-09-30T19:37:06+00:00
2026-09-30T19:37:06+00:00
 
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
আদমদীঘিতে নীরব কর্তৃপক্ষ, জলমহাল ইজারার ১২ লাখ টাকা উধাও
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম 
আদমদীঘি ভূমি অফিসের কার্যালয়। ছবি : সময়ের আলো
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চলতি বছরে জলমহাল ইজারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ১ম ও ২য় দফায় ডিসিআর ও চুক্তিনামা ফি বাবদ ১২ লাখ টাকা জমা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে। এদিকে জলমহাল ইজারার প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও উপজেলা জলমহাল কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের পক্ষ থেকে ওই টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাছাড়া ইজারা গ্রহীতারা টাকা জমা দেওয়ার পর ডিসিআর, চুক্তিনামা ও পুকুরের দখল না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে একাধিক লিজ গ্রহীতা। রহস্যজনক কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে অফিসের কর্মচারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ তার নিজ কর্মস্থলে না আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন লিজ গ্রহীতারা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা জলমহাল কমিটি বাংলা ১৪৩৩ হতে ১৪৩৫ সন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মাধ্যমে সরকারি জলমহাল ইজারার জন্য চলতি সনের এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে দরপত্র আহবান করেন। ওই দরপত্রে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১০ পুকুর প্রথম দফায় ইজারা প্রদান করা হয়। এরপর গত মে মাসে দ্বিতীয় দফায় জলমহাল ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করেন উপজেলা জনমহাল ইজারা কমিটি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফার দরপত্রে ৮১ টি সিডিউল দাখিল হয়। জলমহাল ইজারা কমিটি দরপত্র যাচাই বাছাই করে ৬৬ টি পুকুরের দরপত্র অনুমোদন দেন। সেই মোতাবেক ইজারা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ৬৬টি পুকুর ইজারা প্রাপ্তদের ডিসিআরের ও চুক্তিনামার কাগজাদি বাবদ টাকা জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। সে মোতাবেক ইজারাপ্রাপ্ত সমিতি কর্তৃপক্ষ তাদের টাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ক্রেডিট চেকিং ও সয়রাত সহকারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর কাছে নগদ টাকা দেন সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য। পরে কর্মচারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ মাত্র কয়েকটি পুকুরের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে এ পর্যন্ত ২৩ জনকে ডিসিআর প্রদান করেন। আর তার কাছে থাকা জমার ১২ লাখ টাকা নিয়ে প্রায় দেড় মাস আগে হঠাৎ করে অফিস থেকে উধাও হয়ে যায়। এরপর অদ্যাবধি তিনি অফিসে যোগদান করেনি। এব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম তার কার্যালয়ের কর্মচারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান কোন পদক্ষপ গ্রহণ না করায় জলমহাল ইজারাপ্রাপ্তদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। 


শেষপর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, উপজেলার কাশিমালকুড়ি বেকার সমিতি, বিনসারা বেকার সমিতি, মুরইল বেকার সমিতিসহ বেশ কিছু সমিতি কর্তৃপক্ষ ডিসিআর পায়নি এখনো। এমতাবস্থায় তারা যখন জলমহাল বা পুকুর দখল পাবেন ততক্ষণে চলে যাবে কয়েক মাস। কিন্তু তাদের তো সে সময়টা কমিটি বর্ধিত করে দেবে না। তিন বছরের মেয়াদ শেষ হবার পরই দখল ছেড়ে দিতে হবে। ফলে ইজারা প্রাপ্তরা লোকসানের আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। 

এ বিষয়ে জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, এ ব্যাপারটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ইতিমধ্যে ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ কিছু টাকা ফেরত দিয়েছে ও কিছু লিজ গ্রহীতাকে ডিসিআরও দেওয়া হয়েছে। টাকা উদ্ধার হলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   আদমদীঘি  নীরব কর্তৃপক্ষ  জলমহাল  ইজারা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: