চট্টগ্রামে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ও ১৬ মামলার আসামি মুরাদ বাহিনীর প্রধান মুরাদকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার পটিয়া থেকে তাদের গ্রেফতার করে বাকলিয়া থানা পুলিশ। বুধবার বিকালে গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য জানানো হয়।
মুরাদ যুবদলের সংগঠক পরিচয় দিলেও তাকে অনেক আগে বহিষ্কার করা হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়।
এ ব্যাপারে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলার পটিয়া থেকে মুরাদ বাহিনীর প্রধান মুরাদ ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে বাকলিয়া এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। মুরাদের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে বিক্রি করতেন জসিম নামে ব্যক্তি। কিন্তু এক বছর আগে দুজনের সম্পর্ক টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। মুরাদের কাছ থেকে ইয়াবা নেওয়া বন্ধ করে অন্য উৎস থেকে মাদক সংগ্রহ শুরু করেন জসিম। মুরাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এলাকায় নিজের বলয় তৈরি করে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনাও করে জসিম। এরপর মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শুরু হয় দুজনের বিরোধ।
বিরোধের জেরে গেল রোববার রাতে নগরের বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ রোডে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। এসময় বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শুনে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। দোকানপাট বন্ধ করে ঘরে ঢুকে পড়েন স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন মুরাদ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মুরাদ বাকলিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসা করে আসছেন। নোয়াখালীর হাতিয়ার বাসিন্দা হলেও বাকলিয়ায় থাকেন অনেক ধরে। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে নিজের অনুসারী লোকজনকে ব্যবহার করতেন। তারা মুরাদ বাহিনীর সদস্য হিসাবে পরিচিত। মুরাদ এলাকায় নিজেকে পরিচয় দেন যুবদল নেতা হিসাবে। ফেসবুক প্রোফাইলে নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও আছে ফেসবুকে।
পুলিশ জানায়, বিভিন্ন থানায় মাদক, অস্ত্র ও মালামাল লুটের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে। দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে তাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরও যুবদল পরিচয় দিয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
সময়ের আলো/এনএন