ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়েতে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ৭৩তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা। এই আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ সামানজার সাঈদ।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আজ ভিয়েতনামের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন তিনি। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মেলে ধরতে চান সামানজার। তার ভাষ্য, আমার একটাই চাওয়া, মঞ্চে উঠে নার্ভাস হয়ে যেন নিজের সামর্থ্য ভুলে না যাই। এতদিন যা শিখেছি, যেসব দক্ষতা অর্জন করেছি, সেগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরতে চাই। গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করাই এখন আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন স্বপ্নেও ভাবেননি সামানজার সাঈদ। ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা তার। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও বায়োটেকনোলজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর কৌতূহল থেকেই প্রথমবারের মতো ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। একের পর এক ধাপ পেরিয়ে বিজয়ী হওয়ার পরও নিজের সাফল্য বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল বলে জানান তিনি।
সামানজারের মতে, মিস ওয়ার্ল্ড কেবল সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা নয়; এখানে ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ। বিজয়ী হওয়ার পর তিনি ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক উপস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ গ্রুমিং নিয়েছেন, যা তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
শুধু পড়াশোনাই নয়, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তার আগ্রহ। চার বছর কথক ও ভরতনাট্যম নাচ শিখেছেন। গান, নাচ এবং খেলাধুলার প্রতিও তার ঝোঁক রয়েছে। অবসরে চলচ্চিত্র দেখতে ভালোবাসেন এবং বাস্কেটবল ও টেবিল টেনিস খেলেন। ভবিষ্যতে ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্র পেলে অভিনয়েও কাজ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।
গত ১১ জুলাই সামানজার সাঈদকে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
আয়োজকদের মতে, প্রায় মাসব্যাপী ধারাবাহিক কার্যক্রমে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল থেকে প্রায় ১২০ জন প্রতিনিধি ভিয়েতনামে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই প্রতিযোগিতার আসর।
সময়ের আলো/এসএকে