চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে বন্ধ ঘোষিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান জলিল টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা না পাওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জলিল টেক্সটাইল মিলের গেটের সামনে এ শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জলিল টেক্সটাইল মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (সিবিএ)-এর উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে শ্রমিক নেতারা দ্রুত তাদের বকেয়া মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটিসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মিলটি ১৯৯৬ সালে বন্ধ হওয়ার পর গত ৩০ বছরেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। পরবর্তীতে গত ১ জুলাই বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের জন্য প্রতীকী মূল্যে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের অনুমতি দেয় সরকার। মিলটি তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
শ্রমিক নেতারা জানান, ২০১২ সালের ৩০ জুন শ্রম মন্ত্রণালয়ের অডিট ফার্মের নিরীক্ষা অনুযায়ী ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারীর পাওনা প্রায় ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে বকেয়া মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটিসহ বিভিন্ন ধরনের পাওনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন পাওনা না পাওয়ায় অনেক শ্রমিক চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে পারছেন না। অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাদের পরিবারও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে বলে সমাবেশে জানানো হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ফৌজদারহাট-বাঁশবাড়িয়া অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন মাহমুদ, মিল সিবিএর সহসভাপতি মোহাম্মদ সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম আজাদ, দফতর সম্পাদক ইউসুফসহ শ্রমিক নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করে কোনোভাবেই মিলের সম্পদ হস্তান্তর করা উচিত নয়। তারা শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণের কথাও জানানো হয়। শ্রমিকদের দাবি, পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করেই জলিল টেক্সটাইল মিলের হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সময়ের আলো/জোই