বর্তমান সরকারের উন্নয়ন হবে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাস সম্পদ নিয়ে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১২ টায় বরিশাল নগরের সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন বলতে এখন আর বড় বড় মেগা প্রজেক্ট, দৃশ্যমান বিশাল অট্টালিকা, স্পর্শ করার মত বড় বড় গাড়ি বুঝায় না। এখনকার উন্নয়ন হচ্ছে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাস সম্পদ। বিগত সরকার ১৭ বছর যা উত্তোলন করতে পারেনি অথবা করেনি। আমদানি কারকদের লাভ দেয়ার জন্য হাজার হাজার গুন বেশি টাকা দিয়ে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং কাঠামোকে নির্ভরশীল করে রাখা হয়েছে আমদানি নির্ভর জ্বালানি নীতির উপরে৷
মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট রয়েছে। রেডিমেট গার্মেন্টস বিদেশের রপ্তানি করে যেটুকু আমরা বৈদেশিক মুদ্রা পাই, আর রেমিট্যান্স থেকে যে বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায় এর বাইরে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার তেমন কোন উপার্জন নাই। এরকম একটি দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের কাঠামোর উপরে একটা সরকার কত নির্মম হলে পরে, কতটা লোভী হলে এমন একটি দুর্বল অর্থনীতিকে আজকে আমদানি নির্ভর করার চক্রান্ত সে আমদানি নির্ভর করার চক্রান্ত করল একদল লুটেরাকে ধনী করার জন্য৷
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার গ্যাস উত্তর না করে আমদানিতে গিয়েছে। কারণ উত্তোলন করলে তার লাভ কম। মধ্যস্বত্বভোগী তৈরি করা যায় না। কিন্তু বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ নীতিকে নিয়োগ করছে উত্তোলনের কাজে। বিদ্যুৎ কাঠামোকে ধরে রাখার জন্য যেটুকু আমদানি করতে হয় সেটুকু আমদানি করবে সরকার। বাকিটা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে করার চেষ্টা করবো। এতে খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেশায় বুধ করে রাখার একটা গভীর ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা চলছে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে নেশাদ্রব্য উৎপাদন করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে বাজার হিসেবে টার্গেট করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টার্গেট করে সীমন্ত এলাকাতে এ কাজ করা হচ্ছে। আমরা এটাও দেখেছি সীমান্ত এলাকার কোন কোন এমপিরা গত সরকারের আমলে দেশের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। সেই সমস্ত কারবারিরা সরকার পরিবর্তন হবার পর এখনকার ক্ষমতাসীন দলের পার্টনার খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এরকম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একমাত্র গণমাধ্যমের পক্ষেই দেয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যদি সম্মিলিতভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার মধ্য দিয়ে নেশার উৎস, কারবারি কারা সেটা খুঁজে যদি বের করা যায় যে তিনি একজন প্রভাবশালী সমাজ রাজনীতিতে সাংবাদিকরা যদি সেটিকে উন্মোচিত করে তাহলেই কেবল রাষ্ট্রের পক্ষে ব্যবস্থা নেয়া খুব সহজ হয়ে দাঁড়ায়।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার। তারেক রহমান এই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য ৩১ দফার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সেই কর্মসূচির মধ্য দিয়েই আমরা বাংলাদেশকে মেরামত করতে চাই। সংস্কার করতে চাই।
সময়ের আলো/আতা