ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র দাবদাহে কুড়িগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গরমে হাঁসফাঁস করছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকেরও কমে নেমে আসায় তারা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। গরম না কমলে সহসাই এই অবস্থার অবসান হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ।
লাগামহীন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন আবাসিক এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দা, বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এছাড়া, বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল গৃহস্থালি কাজে ব্যাঘাত ঘটায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। লোডশেডিং চলছে পল্লী বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনেও। প্রতিষ্ঠানটির আওতাধীন অনেক এলাকায় রাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। ফলে, শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও গ্রাহকরা বিরক্তি প্রকাশ করছেন।
এদিকে, টানা কয়েক দিনের অনাবৃষ্টিতে আমন খেতে সেচ দিতে হচ্ছে কৃষকদের। কিন্তু বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে সেচব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেচ প্রকল্পের বেশিরভাগ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত হওয়ায়, আমন চাষে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে সেচ দিচ্ছেন।
বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ গ্রাহকদের মধ্যে সামর্থ্যবানরা ঝুঁকছেন তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ তথা আইপিএসের দিকে। তবে, রুটিন মেনে চলা লোডশেডিংয়ে আইপিএসের ব্যাটারি চার্জ করা নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
কুড়িগ্রাম জেলা শহরের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যবসার গতি থেমে গেছে। কি যে করব, বুঝতে পারছি না।’
জেলা শহরের কলেজ মোড়স্থ আরেক ইন্টারনেট ব্যবসায়ী শাওন রহমান বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কোনো কাজ করতে পারছি না। গ্রাহকরা আমাদের কাজে ভীষণ অসন্তুষ্ট। কবে সমস্যার সমাধান হবে, সেটাও বলতে পারি না। বড় বিপদে আছি।’
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে গৃহিণীরাও বিরক্তি প্রকাশ করছেন। গরমে ঘরে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। চার্জার ফ্যান দিয়ে ঘাটতি পূরণ করতে পারছেন না তারা ।
পৌর শহরের কৃষ্ণপুর এলাকার গৃহিণী আঞ্জুমান আরা বলেন, ‘কারেন্টের অসহ্য যন্ত্রণায় পাগল হওয়ার অবস্থা হয়েছে। চার্জার ফ্যান চার্জ করার সুযোগও পাওয়া যায় না।’
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, সরকারি, রেন্টাল ও কুইক রেন্টালসহ ৫ ধরনের পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। তবে, সব প্ল্যান্টের জ্বালানি সরবরাহ করে পিডিবি। বর্তমানে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় তারা ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কুড়িগ্রাম কার্যালয় জানায়, কুড়িগ্রামের টগরাইহাট গ্রিডে জেলা সদরসহ ৫টি উপজেলার (সদর, উলিপুর, চিলমারী, রাজারহাট ও ভূরুঙ্গামারী) জন্য মোট চাহিদা প্রায় ১১ মেগাওয়াট। এই চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৬ থেকে সাড়ে ৬ মেগাওয়াট। ফলে, ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
নেসকোর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অর্ধেক, কখনও অর্ধেকেরও কম। ফলে, লোডশেডিং চলছে।’
পরিস্থিতির উন্নতি হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এক্তিয়ারের উপর তা নির্ভর করছে।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. শামীম পারভেজ জানান, ‘কুড়িগ্রামে প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক। আমরাও চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম পাচ্ছি। ফলে, আমাদের আওতাধীন সঞ্চালন লাইনে ৫০ শতাংশ লোডশেডিং চলছে।’
পরিস্থিতি উন্নতি হবে কিনা, জানতে চাইলে উৎপাদন-সংশ্লিষ্টরা বলতে পারবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
সময়ের আলো/মহু