স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের নিজ সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একমাত্র জেনারেটর একজোড়া ব্যাটাটির অভাবে দীর্ঘ দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হলে বন্ধ থাকে অপারেশনসহ জরুরি সব স্বাস্থ্যসেবা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা।
হাসপাতালটিতে লোডশেডিংয়ের সময় পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। তখন হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বন্ধ থাকে প্যাথলজি বিভাগ, অপারেশনসহ সব জরুরি সেবা। হাসপাতালে আগত সেবা নিতে আসা রোগীদের বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
এ বিষয়ে কথা হয় শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের জুনিয়র মেকানিক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। এ সময় তিনি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে হাসপাতালের জেনারেটর নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। একজোড়া ব্যাটারি হলেই পুনরায় জেনারেটরটি চালু করা সম্ভব।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মাসুদ রানা বলেন, আমি এখানে প্রায় এক বছরের কাছাকাছি হবে যোগদান করেছি। যোগদান করার পর থেকেই দেখছি জেনারেটরটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক দিন হওয়ার কারণে ব্যাটারিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে ব্যাটারিগুলো মেরামত করলে কিছু দিন ভালো থাকার পর আবার নষ্ট হয়ে পড়ে।
শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মাসুদ রানা আরও বলেন, লোডশেডিং শুরু হলে একদিকে যেমন হাসপাতালের সব জরুরি কাজ বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিকে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে যখন অপারেশন করতে যাই এ সময় যদি বিদ্যুৎ চলে যায় তখন অপারেশন বন্ধ রাখতে হয়। এতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। উপায় না পেয়ে তখন বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিয়ে জানানোর পর তারা বিদ্যুৎ দিলে অপারেশন সম্পন্ন হয়।
শুধু অপারেশনই নয়, লোডশেডিংয়ের সময় হাসপাতালের সব কাজ বন্ধ থাকে। বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং সিভিল সার্জনকে বলার পর মন্ত্রী আমাকে চাহিদা চেয়ে আবেদন করতে বলেন। তার কথামতো আমি চাহিদা চেয়ে আবেদন করেছি। এখনও জেনারেটরের ব্যাটারির জন্য বরাদ্দ আসেনি। তবে আশা করছি, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই মন্ত্রী বিষয়টির সমাধান করবেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতকে একাধিকবার ফোন দিলে রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরেজমিন কথা হয় শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোগীর ওই স্বজন বলেন, দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতের নির্বাচনি এলাকা শাহজাদপুর। তার এলাকায় হাসপাতালের জেনারেটর নষ্ট হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর ধরে। তাও আবার একজোড়া ব্যাটারির অভাবে এমন জরুরি একটি জিনিস চালু করা যাচ্ছে না। রাতে লোডশেডিং হলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নিজ এলাকার হাসপাতালের এমন করুণ দশা একদম বেমানান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থায়ীয় সূত্রে জানা যায়, জেনারেটরটি দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় হাসপাতালে বাক্সবন্দি
থাকলেও কেউ এটি খুলে চালু করার উদ্যোগ নেয়নি। পরে ২০২০ সালে হাসপাতালে ইউএইচএফপিওর দায়িত্বে থাকা আমিনুল ইসলাম খান নিজ উদ্যোগে বাক্সবন্দি জেনারেটর চালু করে লোডশেডিংয়ের হাত থেকে হাসপাতালটি রক্ষা করেন।
আমিনুল ইসলাম খান হাসপাতাল থেকে বদলি হয়ে যাওয়ার পর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দুই বছর আগে গুরুত্বপূর্ণ জেনারেটরটি অচল হয়ে পড়ে। সেই থেকে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে জেনারেটরটি। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে জেনারেটরটি ফের চালু করা দরকার।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি