ওমানের উপকূলের কাছে প্রায় ৩৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বহনকারী এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই তেল ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে ওমান সরকার। খবর রয়টার্সের।
ওমানের সরকারি পরিবেশ কর্তৃপক্ষ সোমবার (১০ আগস্ট) জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ধোফার গভর্নরেটের হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তেলের স্তরটি প্রায় ৩৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে।
পরিবেশ কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, তেল ছড়িয়ে পড়া এলাকা দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পূর্ব দিকে মূল ভূখণ্ডের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। উপকূলের সবচেয়ে কাছের অংশটি তীর থেকে আনুমানিক সাত কিলোমিটার দূরে রয়েছে।
২৭৪ মিটার দীর্ঘ ট্যাংকার ক্যারোলিন বেজেঙ্গি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই তেল ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্সের স্যাটেলাইট চিত্র ও জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, গত মাসের শেষ নাগাদ তেলের স্তরটি আরও বিস্তৃত হচ্ছিল। এতে পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজটির ক্ষতির কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ওমান সরকারও এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৮ জুন ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর মুকাল্লার কাছে জাহাজটির নাবিকেরা সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, জাহাজটির ভেতরে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রা শুরুর আগে ক্যারোলিন বেজেঙ্গিতে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বোঝাই করা হয়েছিল। ১১ জুন ইয়েমেন উপকূলের কাছে জাহাজটি সর্বশেষ পাবলিক এআইএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় অবস্থান সংকেত পাঠায়।
রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে পুরোনো ও অনেক ক্ষেত্রে দুর্বলভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা ট্যাংকার ব্যবহার করে। এসব জাহাজকে সাধারণত রাশিয়ার ‘ছায়া বহর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য ক্যারোলিন বেজেঙ্গির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ