মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা পতনউষার-তারাপাশা সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে উঠে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, পতনউষার-তারাপাশা সড়কের এয়ারপোর্ট থেকে তারাপাশা অংশের মেরামতকাজের জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ‘রিবেল এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ঠিকাদার হিসেবে কাজটি করেন সাইফুল ইসলাম।
নথিপত্র অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত মার্চে কাজ শুরু করে এবং জুলাইয়ে তা শেষ করে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের বিটুমিন, পাথর ও ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যথাযথ তদারকিও ছিল না।
এলাকাবাসীর দাবি, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করায় অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। হালকা বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পালপুর অংশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পতনউষার বাজারের ব্যবসায়ী সাজিদুর রহমান সাচ্চু বলেন, ‘কাজ নিম্নমানের হওয়ায় কয়েক দিনের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। সংস্কারের পরও সড়কটির আগের অবস্থার মতোই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
কামারচাক ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, কাজে অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সড়কটি টেকসইভাবে মেরামতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিবেল এন্টারপ্রাইজের কন্ট্রাক্টর সুয়েলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।
পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, ‘রাস্তার কাজের বিষয়টি আমি উপজেলা মাসিক সভায় উত্থাপন করেছি। রাস্তার কার্পেটিংয়ের ত্রুটি পুরোপুরি মেরামত না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ না করার জন্য অনুরোধ করেছি।’
কমলগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল আজম বলেন, ‘নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করে কাজ করা হয়নি। কাজটি যেহেতু ম্যানুয়ালি করা হয়েছে, তাই বিটুমিন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে এর আঠালোভাব নষ্ট হতে পারে। পরে বৃষ্টির পানি সড়কের ওপর জমে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাজ শেষ হয়েছে মানেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়মুক্ত হয়ে যায়নি। এক বছরের সিকিউরিটি পিরিয়ড রয়েছে। যেখানে যেখানে ত্রুটি হয়েছে, সেসব জায়গা পূর্ণ মেরামত করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।’
সময়ের আলো/এসএকে