চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই জোড়াতালি দিয়ে চলছে ১১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। একই সঙ্গে উপজেলার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এতে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব বণ্টনের কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী প্রধান শিক্ষকবিহীন ১১টি প্রতিষ্ঠান হলো লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয়, হযরত খাজা কালুশাহ (রহ.) বালিকা বিদ্যালয়, ভাটিয়ারী হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদ আবুল কাশেম রাজা উচ্চবিদ্যালয়, সবুজ শিক্ষায়তন উচ্চবিদ্যালয়, কুমিরা আবাসিক উচ্চবিদ্যালয়, আরআর টেক্সটাইল মিলস উচ্চবিদ্যালয়, মাহমুদাবাদ উচ্চবিদ্যালয়, পন্থিছিলা উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসা-এ মোহাম্মদিয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া এবং লালানগর ইসলামী দাখিল মাদ্রাসা।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির উদাসীনতা এবং নিজেদের পছন্দের জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতার কারণে সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অনেকে পরিচালনা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করায় স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কমিটির আগ্রহ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক দক্ষতা ও যোগ্যতা না থাকায় এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান ও পরীক্ষার ফলাফলে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় জানায়, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য প্রতিটি পরিচালনা কমিটিকে একাধিকবার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আলম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ১০টি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বারবার লিখিত নির্দেশনা দেওয়ার পরও পরিচালনা পর্ষদ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।’
সময়ের আলো/এমকে