নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা পরিষদ প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলায় যুব উন্নয়ন অফিস। এ অফিসে দাফতরিক কাজের পাশাপাশি একই কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে রান্নার কাজে। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের পাশে রান্নার কাজ হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এ দফতর।
চতুর্থ তলায় যুব উন্নয়ন অফিস ছাড়াও মৎস্য অফিস ও মহিলা বিষয়ক অফিসও রয়েছে। উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের তথ্যমতে, এ অফিসের অফিস প্রধানসহ ৬ জন স্টাফ। অফিসটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজেদের খরচে একজন নারীকে রাখা হয়েছে। ওই নারীকে দিয়ে অফিস দিনগুলোতে শুধু দুপুরে নিজেদের খাবারের জন্য রান্না করিয়ে নেওয়া হয়। গত ৩ মাস থেকে এভাবে অফিসের ভেতরে রান্নার কাজ করা হচ্ছে। নিজেদের সুবিধার জন্য রান্না করা হলেও, সমস্যা হচ্ছে পাশের অফিসে। যা নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে সেই অফিসের স্টাফদের।
স্থানীয়রা বলছেন, অফিসের কক্ষে রান্না করার কোনো মানেই হয় না। একেবারে জগাখিচুড়ি অবস্থা। অফিসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যদি নিজেরা বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হয়, তাহলে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসাই ভালো হবে।
অফিস সহকারী মো, আব্দুল জলিল বলেন, ‘অফিস স্টাফরা মিলে দুপুরে খাওয়ার জন্য অফিসের ভেতরে রান্না করা হয়। কারণ, বাড়িতে খেতে যাওয়াটা সময়সাপেক্ষ এবং তাতে কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এভাবে রান্না করা ঠিক হচ্ছে কিনা বলতে পারব না, তবে আমার কাছে খারাপ মনে হচ্ছে না। নিজস্বভাবে রান্না করে খাওয়া হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসম্মত। বাইরের হোটেল খাওয়া একটু সমস্যা, শরীরে সহ্য হয় না।’
তিনি আরও জানান, গত ৩ মাস থেকে কখনও গ্যাসে, আবার কখনও বিদ্যুতে রান্না করা হচ্ছে।
বদলগাছী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস.এম মাঝহারুল আলম বলেন, ‘আমাদের বয়স হয়েছে। হোটেলে খাওয়া কষ্টসাধ্য। যদি কারও সমস্যা হয়, আগামীতে আর রান্না করাব না।’
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘অফিস তো আর হোটেল না। এভাবে কার্যক্রম চলাটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি, কিন্তু কিছু বলা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত হবে, এই ভেবেই বলা সম্ভব হয়নি।’
এ ব্যাপারে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘ওই অফিসে রান্নার কাজ করা হয় কিনা, আমার জানা নেই। তবে, বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সময়ের আলো/মহু