নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মোল্যা ও ফারাজি গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত জুন মাসে উভয় পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কালিয়া থানায় আটটি পৃথক মামলা হলেও সংঘাত থামেনি। এর জের ধরে বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে সাতবাড়িয়া পুরোনো বাজার এলাকায় প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতবাড়িয়া গ্রামে দীর্ঘ দিন ধরে মোল্যা গ্রুপ ও ফারাজি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গত ১৩ জুন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে থানায় আটটি মামলা হয়। কিছুদিন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও আজ সকালে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফারাজি গ্রুপের আনোয়ার ফারাজির ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এই হামলায় আনোয়ার ফারাজিসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য আহতদের নড়াইল জেলা হাসপাতাল এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হায়দার মুন্সি (আহত ও ভুক্তভোগী) জানান, আনোয়ার ফারাজির ওপর হামলার খবর পেয়ে তারা উদ্ধারে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আশিকুর মোল্যা, ইমরান ফারাজি, শফিকুল ফারাজি ও শান্ত ফকিরসহ একদল সশস্ত্র লোক তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় হামলাকারীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তিনি জানান।
রবিউল (মোল্যা গ্রুপ) প্রতিপক্ষের এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ফারাজি গ্রুপের লোকজন প্রথমে রকিবুল ফারাজির বাড়িতে ঢুকে তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধর করে। এরপর তারা আশিকুর মোল্যা ও ছোটন মোল্যার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়, যা দুই পক্ষকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এর আগেও আটটি মামলা হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় নতুন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সময়ের আলো/জোই