লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত ঝালকাঠির জনজীবন, শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি

সারাদেশ

ঝালকাঠিতে ঘনঘন লোডশেডিং এবং ভ্যাপসা গরমে চার উপজেলার প্রায় সোয়া দুই লাখ গ্রাহক চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। দিন-রাত পালাক্রমে ঘণ্টার

2026-08-12T20:46:17+00:00
2026-08-12T21:39:15+00:00
 
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত ঝালকাঠির জনজীবন, শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত
আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম  আপডেট: ১২.০৮.২০২৬ ৯:৩৯ পিএম
ঝালকাঠিতে লোডশেডিংয়ে গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত, হুমকির মুখে শিল্প-কারখানা। ছবি : সময়ের আলো
ঝালকাঠিতে ঘনঘন লোডশেডিং এবং ভ্যাপসা গরমে চার উপজেলার প্রায় সোয়া দুই লাখ গ্রাহক চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। দিন-রাত পালাক্রমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ঝালকাঠি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)–এর তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ৩৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং করছে।

জেলা শহর ও এর আশপাশে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১০ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে বরিশাল থেকে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনে মাত্র ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এই আওতাধীন ৯টি ফিডারের মাধ্যমে প্রায় ২৭ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় সাধারণ সময়ে দৈনিক চাহিদা ১৪ থেকে ২০ মেগাওয়াট হলেও পিক আওয়ারে তা বেড়ে ২২ থেকে ২৬ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়।

প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মমতাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে এবং জেনারেটরের মতো বিকল্প ব্যবস্থা চালু রাখতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।




ব্যবসায়ী মো. বাদশা খলিফা বলেন, ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ফ্রিজ ও কম্পিউটারসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি খরচও বাড়ছে।

শিক্ষার্থী মো. নাহিদ ইসলাম জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কারখানা মালিক মো. বশির রাড়ী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো মেশিন চালানো যায় না। ফলে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হয় এবং যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়লে এই ভোগান্তি কমে আসবে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, জাতীয় গ্রিড ও উপকেন্দ্র থেকে চাহি অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এদিকে, ঝালকাঠি থেকে বরিশাল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলেও ঝড়-বৃষ্টির সময় সড়কের পাশের গাছের ডালপালা তারের ওপর পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   ঝালকাঠি  লোডশেডিং  গরম  জনজীবন বিপর্যস্ত  শিল্প-কারখানা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: