৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের তিনতলা কার্যালয়টি এখন পরিণত হয়েছে এক ভুতুড়ে বাড়িতে। যে ভবন একসময় মুখরিত থাকত দলীয় নেতাকর্মীদের স্লোগান ও কার্যক্রমে, আজ সেখানে চলছে ভবঘুরে ও মাদক সেবিদের আড্ডা। আসবাবপত্র ভাঙচুর, যত্রতত্র মলমূত্রের দুর্গন্ধ আর পরিত্যক্ত এই ভবনের বারান্দায় কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যক্রম— সবমিলিয়ে জরাজীর্ণ এক রূপ নিয়েছে লাখো টাকায় নির্মিত এই রাজনৈতিক স্থাপনাটি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনতলা বিশিষ্ট বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের এই কার্যালয় উদ্বোধন করেছিলেন। ভবনটির নিচতলা ‘বঙ্গবন্ধু হল’ হিসেবে এবং দ্বিতীয় তলায় নিয়মিত অফিস করতেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতার পালাবদলের পর কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ভাঙা কাচ ও পোড়া দাগের পাশাপাশি সিঁড়ির রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী সেখানে গোপনে জাতীয় পতাকা ও ব্যানার তোলার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি।
বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রমের চিহ্নমাত্র নেই এই অফিসে। রাতের আঁধারে সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে এবং ভবঘুরে যুবকেরা সেখানে রাতযাপন করেন। তবে দিনের বেলায় চিত্র কিছুটা ভিন্ন; অফিসটির বারান্দা ও চত্বর এখন সাধারণ মানুষের বিভিন্ন পেশাগত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারিম্যান সাগর মাহমুদ জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে এখানে কোনো নেতার পদচারণা না থাকায় তারা মালামাল আনলোড ও ডেলিভারির কাজের জন্য এটি ব্যবহার করছেন। এছাড়া কার্যালয়ের মাঠে ও আশেপাশে মাইক্রোবাস চালক শাহাব উদ্দিন ও অ্যাম্বুলেন্স চালক মামুনুর রশীদের মতো অনেকেই বিনামূল্যে গাড়ি পার্কিং ও বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করছেন জায়গাটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, জনগণের অর্থে নির্মিত এই কার্যালয় জনস্বার্থে সরকারি কোনো দফতরে রূপান্তর করা উচিত। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য জাওয়াদুল করিম বলেন, স্বৈরাচারের এই ধ্বংসস্তূপ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বড় শিক্ষা।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানান, ওই কার্যালয়ে রাতে অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়ে কেউ আগে অভিযোগ করেনি। বিষয়টি জানার পর তিনি সেখানে পুলিশ ফোর্স পাঠানোর কথা জানিয়েছেন।