দৌলতদিয়ায় জিও ব্যাগ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

‎রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় শুধুমাত্র কাগজে-কলমেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১ কোটি ২০ লাখ টাকার জিও ব্যাগ প্রকল্পের কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

2026-08-13T17:32:40+00:00
2026-08-13T17:34:32+00:00
 
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
দৌলতদিয়ায় জিও ব্যাগ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩২ পিএম  আপডেট: ১৩.০৮.২০২৬ ৫:৩৪ পিএম
জিও ব্যাগ প্রকল্পের কাজ। ছবি : সময়ের আলো
‎রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় শুধুমাত্র কাগজে-কলমেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১ কোটি ২০ লাখ টাকার জিও ব্যাগ প্রকল্পের কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাঠে নেই দৃশ্যমান তেমন কোনো বাস্তবায়ন। অভিযোগের তীর রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা বলছেন, ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকেরা ‘কাজ না করেও করেছি’ এই অযুহাতে ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপসহ উচ্চ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎‎জানা যায়, জরুরি নদী শাসন প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের উজানে প্রথম, ৩ নম্বর ফেরীঘাটের উজানে মসজিদ সংলগ্ন স্থানে দ্বিতীয়, ৪নম্বর ফেরিঘাটে তৃতীয় এবং ৭ নম্বর ফেরীঘাটের একটু ভাঁটিতে চতুর্থটিসহ মোট ৪টি স্থানে নদী শাসনের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট দফতর।

‎‎কাগজে-কলমে একেকটি প্যাকেজে সর্বনিম্ন ৬ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৯০০ টি পর্যন্ত জিও ব্যাগ ফেলার কথা। একেকটি প্যাকেজের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটার, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। এজন্য ৪টি প্যাকেজে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সংশ্লিষ্ট দফতর। 


‎ভুক্তভোগীদের দাবি, ভাঙনকবলিত স্থানে প্যাকেজ অনুসারে ৬ হাজার ৫০০টি জিও ব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও, বাস্তবে ফেলা হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজারটি। প্যাকেজের অবশিষ্ট জিও ব্যাগের কোনো হদিস নেই। স্থানীয় কেউ ভাঙনকবলিত স্থানে সেগুলো ফেলতে দেখেননি। এ নিয়ে কাজ শুরুর প্রথম দিন থেকেই ঠিকাদার, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয়দের মাঝে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। 

‎‎তারা আরও অভিযোগ করেন, অবশিষ্ট জিও ব্যাগের টাকা সুকৌশলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারের লোকেরা দফারফা করেছেন। এজন্য কাজের প্রমাণ লোপাট করেছেন। 

‎যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিও ব্যাগ নদীতে ফেলা হচ্ছে কিনা, তা তদারকিতে স্থানীয় পর্যায়ে জিও ব্যাগের বস্তা গণনার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। তবে, সরজমিনে গিয়ে উক্ত কমিটির কোনো অস্তিত্ব দেখা যায়নি। শোনা যায়, এই কমিটিতে রয়েছে এসিলেন্ড, এমপির প্রতিনিধি, ডিসির প্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা।

‎‎স্থানীয় বেশিরভাগ লোকেরা অভিযোগ করে বলছেন, এরা কত বস্তা জিও ব্যাগ নদীতে ফেলেছে, তার সঠিক হিসাব কাউকে দিতে রাজি নন। কেউ গিয়ে জিজ্ঞেস করলে, এরা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হন। শুধু তাই নয়, মারতেও আসেন, করেন গালাগালিও। দেখান অহিংস মনোভাব ও ক্ষমতার প্রভাব।

‎তবে, এমন অভিযোগ মানতে নারাজ রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তাজমিনুর রহমান। তার দাবি, শতভাগ কাজ হয়েছে। কিন্তু কাজ কীভাবে হয়েছে, এমন প্রশ্নের মৌখিক জবাব ছাড়া কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা। এসময় তিনি নিজের স্বপক্ষে নানান যুক্তি ও অযুহাত দেখান, যা বাস্তবসম্মত নয়। 

গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, ‘কোনো অনিয়ম হলে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।’

সময়ের আলো/মহু

  বিষয়:   দৌলতদিয়া  জিও ব্যাগ  প্রকল্প  অনিয়ম  অভিযোগ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: