নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর উপকূলীয় বন বিভাগে কর্মকর্তাদের পদায়ন, দায়িত্ব বণ্টন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত রেঞ্জ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব না দিয়ে ফরেস্টারসহ নিম্নপদের কর্মচারীদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোল্লা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় বন বিভাগের প্রায় ৮ থেকে ১০টি রেঞ্জে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিম্নপদের কর্মচারীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তাদের পরিবর্তে এসব কর্মচারী বাগান, নার্সারি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ও বন বিভাগের কয়েকটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, ডিএফওকে ম্যানেজ করে এভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হচ্ছে।
অভিযোগের তথ্যানুযায়ী, ফরেস্টার কামরুল জামান গত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে নোয়াখালী সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। ফরেস্টার কামরুল হাসান দায়িত্বে রয়েছেন চর আলেকজান্ডার (রামগতি) রেঞ্জে। আর ফরেস্টার সামছুল কবির দুই বছরের বেশি সময় ধরে কোম্পানীগঞ্জ রেঞ্জের দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, নিয়োগপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মিঠুন বাবুকে প্রায় ছয় বছর ধরে লক্ষ্মীপুর রেঞ্জের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত রাখার অভিযোগ উঠেছে।
কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি সরকারি বাগান উজাড় ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিএফও মোল্লা মিজানুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোনো বাগান উজাড়, কাঠ ব্যবসায়ীদের ইচ্ছেমতো গাছ কাটার সুযোগ দেওয়া এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন অনিয়ম করা হচ্ছে।
রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় অনুমোদনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গাছ কাটার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এক হাজার গাছ কাটার অনুমতি নিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার গাছ কাটা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বন সৃজনে যুক্ত স্থানীয় সুফলভোগীরাও তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন। কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ারহাট বাজার এলাকার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ বাগানের সভাপতি শাহজাহান মেম্বার বলেন, দুই বছর আগে আমাদের গাছ কেটে নিয়ে গেলেও আজও সুফলভোগীদের কোনো সুবিধা বা লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি।
রামগতি উপজেলার সুফলভোগী হারুন অর রশিদ বলেন, তিন বছর ধরে গাছ কেটে নিয়ে গেছে, অথচ আমরা কোনো ভাগ পাইনি। আমরা সরকারের কাছে এর সঠিক বিচার চাই।
রামগতি রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা ফরেস্টার কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোল্লা মিজানুর রহমান বলেন, ফরেস্টার পদে থাকা কর্মকর্তারাও রেঞ্জের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বাগান বা সুফলভোগীদের পাওনা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে উপকূলীয় বন বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন, বন ব্যবস্থাপনা ও গাছ কাটার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা। তাদের মতে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সময়ের আলো/জোই