শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। নালিতাবাড়ী অংশের প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে জমছে হাঁটুপানি। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। দুর্ভোগে পড়ছেন ব্যবসায়ী, পথচারী ও যানবাহনের চালকেরাও। এমতাবস্থায় দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভারত সীমান্তবর্তী শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধান-চাল, আমদানিকৃত পাথর, খনিজ কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুই উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যে এ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে নালিতাবাড়ী অংশের প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়ক ইটের সলিং থেকে পিচঢালাই সড়কে উন্নীত করে। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সড়কটির সংস্কার করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ফলে প্রতিদিনের ছোট-বড় হাজারো যানবাহনের চাপে সড়কের ওপরের কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও কোথাও মেকাডম ক্ষয়ে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ।
শুধু সড়কের ওপরের অংশ নয়, বিভিন্ন স্থানে পাশের পুকুরের পাড় ভেঙে পাকা সড়কের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কোথাও কোথাও সড়ক সরু হয়ে পড়েছে। গর্ত ও খানাখন্দ এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কোনো কোনো স্থানে যানবাহন খাদে পড়ে উল্টে গিয়ে সড়কের একাংশে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
সড়কটির সবচেয়ে নাজুক অবস্থা নালিতাবাড়ী পৌর শহরের আড়াইআনী বাজার এলাকায়। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটুপানি জমে যায়। এতে ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে সড়কটি সংস্কারে এরই মধ্যে কিছু কাজ শুরু হয়েছে। নালিতাবাড়ী শহরের স্মৃতিসৌধ থেকে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের শেষাংশ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা। বাকি প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. শরাফ উদ্দিন।
স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের অবশিষ্ট অংশের প্রায় সাত কিলোমিটার দ্রুত সংস্কার করা হলে দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে।
সময়ের আলো/এনএন