নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পাঁচ দিন পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাতকোপা-মারীখালী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে একই পরিবারের ছেলে-মেয়েসহ আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
সোমবার দুপুরে হাতকোপা-মারীখালী নদীতে কচুরিপানার মধ্যে ভাসমান অবস্থায় হেলাল উদ্দিনের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া (১৭) ও ছোট ছেলে সামিন হোসেন (৫) রয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনার পরপরই রায়েশা বেগম (৫৫) নামে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয়রা প্রথমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল এবং কোস্ট গার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ট্রলারে থাকা দুটি গরু ও একটি ছাগলও উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার কুমিল্লার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের মায়াময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গরু-ছাগলসহ ১৩ জন ট্রলারে করে বৈদ্যেরবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। পথে মেঘনা নদীর মাঝপথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায়। এ সময় আটজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
পরে রায়েশা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে সজীব, মেয়ে সামিয়া ও ছোট ছেলে সামিন নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালালেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে নদীতে ভাসমান অবস্থায় সজীব, সামিয়া ও সামিনের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
এদিকে, হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী শিরিন বেগম (৪৫) ও আরেক মেয়ে লামিয়া আক্তারকে ট্রলারডুবির পরপরই স্থানীয়রা জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সোমবার উদ্ধার করা হেলাল উদ্দিনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই