গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ২২ লাখ টাকা দাবি এবং চুক্তির বাইরে কাজ করতে রাজি না হওয়ায়, মো. আনোয়ার হোসাইন নামে কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। পরে নির্দিষ্ট কাজ করে দেওয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন বিশ্বাস এগ্রো ফিশারিজের এই ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে এ বিষয়ে জানান মো. আনোয়ার হোসাইন। গত ৭ মে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে ইউএনওর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
আনোয়ার হোসাইনের দাবি, উন্নত প্রযুক্তিতে মাছ চাষ পদ্ধতির গবেষণায় ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে বিশ্বাস এগ্রো ফিশারিজ যুক্ত রয়েছে। ওই গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাকে ইউএনওর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার কাছে ২২ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, দাবি করা অর্থ দেওয়ার বিষয়টি গবেষণার চুক্তিতে না থাকায় কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর পুলিশ ডেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জেল-জুলুম থেকে বাঁচতে নির্দিষ্ট কাজ করে দেওয়ার শর্তে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান বলে দাবি করেন আনোয়ার হোসাইন।
তিনি বলেন, ‘পাঁচ ফুটের রাস্তাকে আরও সাত ফুট বর্ধিত করে দেওয়ার দাবি করা হয়। পরে এমপি মহোদয়ের মধ্যস্থতায় এক ফুট বর্ধিত করে দেওয়ার শর্তে আমি রাজি হই। কিন্তু কাজ শুরু হলে আবার এক মিটার বর্ধিত করার কথা বলা হয়। নিরুপায় হয়ে আমরা তা করা শুরু করি।’
আনোয়ার হোসাইনের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির বাইরে গিয়ে সরকারের ক্ষতি হয়েছে- এমন কারণ দেখিয়ে ইউএনও তার ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। তার দাবি, ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তাকে চুক্তির বাইরে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
গবেষণায় আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেকোনও গবেষণায় আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। আমাদের এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে দুই জায়গায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এরপর আবার এমন একটি ঘটনায় আমি বিব্রত ও লজ্জিত হয়েছি।’
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ ব্যপারে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সময়ের আলো/মহু