তুরস্ক থেকে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গুপ্তহত্যার ‘কথিত’ ইরানি হুমকির তথ্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে জানিয়েছিল ইসরায়েল। তবে মিত্র দেশের এমন গোয়েন্দা তথ্যে আস্থা ছিল না মার্কিন গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ওয়াশিংটন পোস্ট এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনটির বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েল থেকে পাওয়া ওই তথ্যকে সিআইএর বিশ্লেষকেরা যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে করেননি। তারা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের সংশয়ও জানিয়েছিলেন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েল থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের তৎপরতায় পাওয়া নয় এবং তথ্যটি ছিল কম বিশ্বাসযোগ্য। এরপরও গত ৮ জুলাই ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পের যাত্রায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ওয়াশিংটন পোস্ট এর আগে জানিয়েছিল, ট্রাম্পকে তার ব্যবহৃত পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে সরিয়ে তৃতীয় একটি বিমানে নেওয়া হয়েছিল। কাতারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি দিয়ে ফেরার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে একটি বিমানবন্দর ক্যাটারিং ট্রাকে করে সামরিক সি-৩২এ বিমানে নেয়া হয়। পরে তিনি কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে যুক্তরাজ্যের মিলডেনহল বিমানঘাঁটির উদ্দেশে যাত্রা করেন। এ সময় বিমানটিকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে পাহারা দেওয়া হয়।
গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, সম্ভাব্য হুমকিটি যথেষ্ট গুরুত্বের হওয়ায় তথ্য বিশ্বাসযোগ্য না হলেও সিক্রেট সার্ভিস অতিরিক্ত নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইতোমধ্যে তিনটি ছোট বিপদের ঘটনা ঘটেছে। তাই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি সিক্রেট সার্ভিস। ট্রাম্প নিজেও মঙ্গলবার বলেন, অন্য বিমানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সিক্রেট সার্ভিসের। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যে সিদ্ধান্ত নেন, তিনি সেটিই অনুসরণ করেন।
তবে ইসরায়েল কেন ওই গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এটি কেবল সতর্কবার্তা ছিল, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যও ছিল- তা নিয়ে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, ইসরায়েল থেকে আসা তথ্যের একটি অংশ ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতিকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেও দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এক সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের এমন একটি বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তথ্য জানানোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়।
ইসরায়েল ইরানকে নিজেদের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। একইসঙ্গে তুরস্ক এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও ইসরায়েলের উদ্বেগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য এবং ট্রাম্পের নিরাপত্তা পরিকল্পনা- দুই বিষয়েই অবহিত করা হয়েছিল। তবে ওই সময় রুবিও পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই যাত্রা করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসও গোয়েন্দা তথ্যটির মূল্যায়ন সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
সময়ের আলো/আআ