বন্ধুর পথ পেরিয়ে সর্বোচ্চ আসনে মির্জা ফখরুল

রফিক রাফি

রাজনীতি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হচ্ছেন জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। পরিচ্ছন্ন ও স্বজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল তৃণমূল

2026-08-14T01:35:55+00:00
2026-08-14T01:36:07+00:00
 
  শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
রাজনীতি
বন্ধুর পথ পেরিয়ে সর্বোচ্চ আসনে মির্জা ফখরুল
রফিক রাফি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৫ এএম  আপডেট: ১৪.০৮.২০২৬ ১:৩৬ এএম
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হচ্ছেন জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। পরিচ্ছন্ন ও স্বজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল তৃণমূল থেকে নানা বন্ধুর পথ পেরিয়ে উঠে এসেছেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে। এখন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ, সর্বোচ্চ আসন ‘মহামান্য’ হিসেবে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে। ছাত্রজীবনে বামপন্থায় আস্থা রাখা এই নেতা টানা দেড় দশক ধরে বিএনপির মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতিতে আসা এই নেতার রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পুরোটা সময়ে দমন-পীড়নের মধ্যে দুর্দিন পার করে বিএনপি। এই সময়ে সংগ্রামে অবিচল এই নেতা ছিলেন দলের ময়দানের প্রধান কান্ডারি।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংগ্রাম আর তিনটি গণঅভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি যেন তার ত্যাগের স্বীকৃতিই দিল। পাশাপাশি দলের ভেতরে উদাহরণও তৈরি করল।

ছাত্রাবস্থায়ই রাজনীতিতে হাতেখড়ি : চার দশক আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে নামেন। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের অঙ্গীকারে বেছে নেন এক সাধারণ জীবন। তবে এর আগে ছাত্রাবস্থায়ই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

প্রাথমিকের কৃতী শিক্ষার্থী ঠাকুরগাঁওয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সহপাঠী বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অর্থনীতি বিভাগের কৃতী ছাত্র ছিলেন। ঢাকা কলেজে সবাই ভর্তি হতে পারে না, যদি ব্রিলিয়েন্ট রেজাল্ট না হয়। ফখরুল ছিলেন সেই পর্যায়ের ছাত্র।


অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র বুঝতেই পারেন, পড়ালেখার চাপ কী পরিমাণ থাকে। এরপরও তিনি ছাত্ররাজনীতি করেছেন— সেই রাজনীতির পথ ধরে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। হি ইজ অ্যা ব্রিলিয়েন্ট পারসন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি বাম ধারার রাজনীতিতে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৬০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে উঠে আসেন এবং ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে সে সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের গল্প শুধু দলীয় পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনি রাজনীতির গল্প নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চা, শিক্ষকতা এবং ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা।

ছাত্রজীবনেই তিনি নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাট্যমঞ্চে অভিনয় করেছেন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তার ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে। পরে রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায়ও তার মধ্যে সংস্কৃতিমনস্কতার ছাপ থেকে যায়।

শিক্ষকতা-চাকরি ছেড়ে সংগ্রামে : অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন ১৯৭২ সালে। এরপর বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরে উপ-পরিচালক পদে এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব পদে যোগ দেন। এরপর ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে নেমে পড়েন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।

বাবার দেখানো পথে রাজনীতিতে : মির্জা ফখরুলের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায়। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন এবং মা মির্জা ফাতেমা আমিন। বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন একজন আইনজীবী। তিনি দুবার পাকিস্তান প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ছিলেন এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য।

বাবার মতো রাজনীতির পথ ধরলেও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ)। সেখান থেকে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি ছেড়ে সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল ১৯৯০ সালে যোগদান করেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। তারপর ধাপে ধাপে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে উঠে আসেন।

২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। এরপর ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলটির মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন কৃষক ফ্রন্ট থেকে আসা এই নেতা।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা


  বিষয়:   মির্জা ফখরুল  বিএনপি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: