চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মঘাইছড়ি এলাকায় একই রাতে সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল রবি টাওয়ারের লোহার দরজা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম লুটের পাশাপাশি একটি সমিল থেকে মোটর ও বৈদ্যুতিক তার এবং একটি বাড়ি থেকে পানির মোটর চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে মঘাইছড়ি এলাকার রবি টাওয়ারের লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সংঘবদ্ধ চোরের দল। একই রাতে পার্শ্ববর্তী ইয়াছিন আরাফাতের মালিকানাধীন মনোয়ারা সমিল থেকে ২০ হর্সপাওয়ারের একটি বড় মোটর ও প্রায় ৩৫ ফুট মোটা বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। এছাড়া একই এলাকার আনিসের বাড়ি থেকেও একটি পানির মোটর চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
মঘাইছড়ি এলাকার হাজী রহম আলী তালুকদার ওয়াকফ স্টেটের মোতাওয়াল্লী মাহাবুব আলম সিকদার জানান, এলাকার নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। তবে চুরির রাতে দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে তিনটি ক্যামেরা নষ্ট করে ফেলে।
তবে পাশের একটি ক্যামেরার ফুটেজে ৫ থেকে ৭ জন ব্যক্তিকে ৪-৫ বার চলাচল করতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, ওই ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
মনোয়ারা সমিলের মালিক ইয়াছিন আরাফাতের স্ত্রী সাবরিনা আলম ইসমা (২৪) গত ৮ আগস্ট রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ৭ আগস্ট রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সমিল থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়। সকালে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি মঘাইছড়ি এলাকায় চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিভিন্ন যানবাহনের ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনাও ঘটছে। রবি টাওয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দরজা ভেঙে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করে এমন বড় ধরনের চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীরা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
স্থানীয়রা দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং এলাকায় পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন জানান, অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই