চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার ফেরদৌস স্টিল রিমেল্টিং শিপইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এতে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও একাধিক শ্রমিক।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী শ্রমিক মোহাম্মদ সেলিম জানান, এলএনজি পরিবহনকারী একটি পুরনো জাহাজ কাটার সময় জমিয়ে থাকা বিষাক্ত গ্যাস পানির সংস্পর্শে এসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সহকর্মীদের বাঁচাতে মাস্ক পরে ভেতরে ঢোকার পর গ্যাসের তীব্রতায় জ্ঞান হারান তিনিও।
অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া সেলিম বলেন, ‘আর ২০ সেকেন্ড ভেতরে থাকলে আমিও মারা যেতাম।’
তিনি বলেন, গত ১৮ বছর ধরে এই জাহাজ কাটার করি কিন্তু এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে হইনি।
এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন— পলাশ দাস, সানি দাস, মো. খোকন মিয়া, মো. মনসুর, আব্দুল আলিম সুজন, মো. রানা, নাসির উদ্দিন এবং মো. মতিউর রহমান।
চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি জানায়, হাসপাতালে আনার পরপরই চিকিৎসক ৫ জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শনের পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কার্বন মনোক্সাইড ছড়িয়ে পড়ে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেন। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও রসায়নবিদদের (কেমিস্ট) একটি বিশেষ দল জাহাজের গ্যাস নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলা প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি