বিষেও নেই বিষ

এসএম আলমগীর

জাতীয়

কৃষক ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য জমিতে বিভিন্নরকম রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগ করেন। কোনোটি সরাসরি ফসলে প্রয়োগ করা হয়, আবার কোনোটি সারের

2026-08-16T00:22:17+00:00
2026-08-16T01:01:24+00:00
 
  রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
বিষেও নেই বিষ
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ এএম  আপডেট: ১৬.০৮.২০২৬ ১:০১ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
কৃষক ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য জমিতে বিভিন্নরকম রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগ করেন। কোনোটি সরাসরি ফসলে প্রয়োগ করা হয়, আবার কোনোটি সারের সঙ্গে মিশিয়ে। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগারের নমুনা টেস্টের ফলাফলে দেখা গেছে, বাজারের অধিকাংশ রাসায়নিকই ভেজাল। সঠিক মাত্রার রাসায়নিকে বিষক্রিয়া হয় বিধায় এগুলোক এক ধরনের বিষও বলা হয়। অথচ এই বিষেই নেই প্রয়োজনীয় বিষ। 

অর্থাৎ এসব রাসায়নিক দ্রব্যে যে উপাদানগুলো থাকার কথা, তার অনেক কিছুই নেই। মূল উপাদানের পরিবর্তে গন্ধযুক্ত রং, পানি, তেল কিংবা গুঁড়া- অথবা প্রকৃতপক্ষে কী দিয়ে এসব রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করা হচ্ছে, তা কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজনই সঠিকভাবে বলতে পারবেন। অথচ এসব ভেজাল রাসায়নিক দ্রব্য দেদার উৎপাদন করে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

কৃষকরা এসব ভেজাল রাসায়নিক দ্রব্য জমিতে ব্যবহার করায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা। এর ফলে দেশের কৃষির উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সর্বোপরি ভেজাল কীটনাশক ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

সম্প্রতি সরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইং দেশের বিভিন্ন জেলার একেবারে মাঠ পর্যায় থেকে বিভিন্ন রাসায়নিকের স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পিজিআর (প্লান্ট গ্রোথ রেগুলেটর) টেস্ট করে। ল্যাব টেস্টে যে ফলাফল এসেছে তাতে রীতিমতো গা-শিউরে ওঠার মতো অবস্থা। এতে দেখা গেছে, নামি-দামি অনেক প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর এসব ভেজাল রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করে বাজারজাত করে আসছে। 

ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি এসিআই লিমিটেডের পিজিআর ‘৪-সিপিএ’, যার ব্র্যান্ড নাম ‘বাম্পার ফলন’। এতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১২৫০ পিপিএম ৪-সিপিএ থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ২০০ পিপিএম। এটি ব্যবহার করে কৃষকের ফসলের কোনো লাভ হবে না; বরং ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মাত্রার ভেজাল পাওয়া গেছে কীটনাশক আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দুজ্জামানের প্রতিষ্ঠান মিমপেক্স এগ্রোকেমিক্যাল লিমিটেডের রাসায়নিকে। এ প্রতিষ্ঠানের হিউমিক অ্যাসিডের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এতে প্রয়োজনীয় উপকরণ থাকার কথা ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ; অথচ পাওয়া গেছে মাত্র ০.০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানের রাসায়নিকের ৯৯ ভাগই ভেজাল।

একইভাবে মেসার্স অ্যাডভান্স কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ন্যাপথালিক অ্যাসিটিক অ্যাসিডের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এতে উপকরণ ৯৮ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ০.১১ শতাংশ।

এ ছাড়া ফসল এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৪-সিপিএর নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এতে উপকরণ থাকার কথা ১২৫০ পিপিএম; অথচ পাওয়া গেছে মাত্র ২০০ পিপিএম। আবার মেসার্স আইসিআই এগ্রিকেয়ারের হিউমিক অ্যাসিডের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এতে প্রয়োজনীয় উপকরণ ৭২ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ১৪.৮১ শতাংশ।

এ ছাড়া ক্যামিস্ট ক্রপ কেয়ার লিমিটেডের ৪-সিপিএর নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এতে ১২৫০ পিপিএমের বদলে রয়েছে মাত্র ৪৫০ পিপিএম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এসব পণ্যকে সম্পূর্ণ ভেজাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের রাসায়নিকের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এগুলো খুবই নিম্নমানের। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের প্রতিষ্ঠান টেনস এগ্রো লিমিটেড। 


প্রতিষ্ঠাটির রাসায়নিকের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এর ৪-সিপিএতে ১২৫০ পিপিএমএর বদলে আছে মাত্র ৬৫০ পিপিএম। একইভাবে ইস্পাহান এগ্রো লিমিটেডের ৪-সিপিএতেও ১২৫ পিপিএমএর বদলে আছে মাত্র ৬৫০ পিপিএম, মার্শাল এগ্রোভেট ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রিজের হিউমিক অ্যাসিডে আছে মাত্র ৩.৪৪ শতাংশ। গ্লোবাস এগ্রোভেট লিমিটেডের হিউমিক অ্যাসিডে ১৬ শতাংশ উপকরণ থাকার কথা, অথচ আছে মাত্র ৭.৬০ শতাংশ। এসএএম এগ্রো কেমিক্যালের হিউমিক অ্যাসিডে ৭২ শতাংশের বদলে আছে মাত্র ৩২.৪৫ শতাংশ। এ ছাড়া মেসার্স ইস্ট-ওয়েস্ট কেমিক্যালের ৪-সিপিএ-তে ১২৫০ পিপিএমএর বদলে আছে ৭৫০ পিপিএম, গ্লোন্ডেন ক্রপ কেয়ারের ৪-সিপিএতে ১২৫০ পিপিএমএর বদলে আছে ৭৫০ পিপিএম। এভাবে আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের রাসায়নিকের খুবই নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কেউই কল রিসিভ করেননি। তবে এসিআইর হেড অব বিজনেস সুবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি এসিআইয়ের ফার্টিলাইজার বিভাগ দেখে। তিনি ওই বিভাগের কর্মকর্তা জাহিদ হোসেনের মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। জাহিদ হোসেনের মোবাইলে কল করা হলে তিনিও এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ‘এই সব নিম্নমানের ও ভেজাল কৃষি রাসায়নিক যদি কৃষকের হাতে যায় তা হলে কৃষক যে উদ্দেশ্যে তার ফসলে এসব প্রয়োগ করে সে উদ্দেশ্য সফল হবে না। অর্থাৎ কৃষক এসব ভেজাল রাসায়নিক জমিতে প্রয়োগ করে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রত্যেক কৃষক যদি এভাবে ভেজাল রাসায়নিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে তা হলে কৃষির ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি কমে যাবে। 

এ ছাড়া এসব রাসায়নিকে তারা প্রয়োজনীয় উপাদান না দিয়ে আসলে কী দিয়েছে সেটি তারা ছাড়া কেউ বলতে পারে না, তাই এসব রাসায়নিক দেশের পরিবেশের জন্যই চরম ক্ষতিকর। এ ছাড়া কৃষক আর্থিকভাবেও চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভেজাল রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে কৃষক নানারকম রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে।

সরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে এসব রাসায়নিক পরীক্ষা করার কথা সেগুলোতে সেখানে সঠিকভাবে পরীক্ষা করা হয় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে এসব রাসায়নিক পরীক্ষা করার কথা। ইতিমধ্যে এখান থেকে ১০ হাজার কীটনাশকের কেমিক্যাল টেস্ট রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে বা লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। আরও ৪ হাজার আবদেন জমা আছে। এই ১৪ হাজার কেমিক্যালের যদি ল্যাব টেস্ট করা লাগে থাকলে মিনিমাম ৮০০ মেশিন দরকার। অথচ এখানে মেশিন আছে মাত্র ২টি, তার মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তা হলে মাত্র একটি মেশিন দিয়ে কীভাবে ১৪ হাজার টেস্ট করা সম্ভব। এ কারণেই ল্যাবে সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে ভেজাল কীটনাশক বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

তার দাবি, এসব রাসায়নিকে যে সক্রিয় উপাদানটা থাকার কথা ছিল তা শতভাগের মধ্যে ৯৯ শতাংশই নাই। আমদানিকৃত সক্রিয় উপাদান হিউমিক অ্যাসিড পরিমাণে যা থাকার কথা তার কিছুই নেই। এসব উপাদান না দিয়ে শুধু পানি আর গন্ধযুক্ত রং দিয়েই তারা এসব ভেজাল কীটনাশক বাজারজাত করছে।

বামা সভাপতি জানান, এসব কীটনাশক মূলত ইউরিয়াসহ বিভিন্ন সারের সঙ্গে মিশিয়ে জমিতে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বে থেকেও তিনি নিজেই ভেজাল কীটনাশক আমদানি করে সারা দেশে বাজারজাত করছেন। তার আমদানি ও সরবরাহ করা পণ্যের সিংহভাগই হিউমিক অ্যাসিড। প্রতি বছর তিনি কয়েক হাজার টন হিউমিক অ্যাসিড বিক্রি করেন। এ ধরনের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। গত বছর রিট করা হয়েছিল হাইকোর্টে তবু থামেনি অপতৎপরতা।

দেশের চাহিদার ৯৫ শতাংশ কীটনাশক আমদানি করতে হয়। আইনে বলা আছে- একটি নির্দিষ্ট বিদেশি উৎস থেকে কীটনাশক আমদানি করতে হবে, কিন্তু অনেক কোম্পানি সে আইন অমান্য করে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে কীটনাশক আমদানি করে। আর এগুলো সরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করার কথা তারাও তা করছে না।


এ বিষয়ে গত বছর হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হলে হাইকোর্ট রুল জারি করে এবং এভাবে কীটনাশক কেন আসছে, কারা আনছে তার সঠিক তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে কৃষি সচিব, বাণিজ্য সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি নিদের্শ দেয়।

কোনো প্রতিষ্ঠান যদি কীটনাশক আমদানি করতে চায়, তার জন্য আগে তাকে লাইসেন্স নিতে হবে। যে কীটনাশক আমদানি করা হবে তার স্যাম্পলসহ জমা দিতে হবে। এর পর সেটির ল্যাব টেস্ট হবে। ল্যাব টেস্টে পাস করলে সেটির বায়োলজিক্যাল টেস্ট করতে হবে। কোয়ালিফাই করলে ওই কীটনাশক আমাদের পরিবেশের জন্য উপযোগী কি না তার জন্য ফিল্ড ট্রায়াল হবে। এসব কিছু পরীক্ষার কীটনাশক আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।

অথচ এসব পদ্ধতিকে পাশ কাটিয়ে একটি মহল যুগ যুগ ধরে দেশে ভেজাল কীটনাশক আমদানি করে কৃষি ও কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এই ভেজাল কীটনাশক ফসল থেকে খাদ্যের মধ্যেও চলে আসে। ফলে মানব শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, তারা এসব কীটনাশক যে দামে কিনে আনছে তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি দামে কৃষকের কাছে বিক্রি করছে। বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান মিমপিক্সই নিম্নমানের ভেজাল কীটনাশক আমদানি করছে।

কৃষির চরম ক্ষতি : কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাকে বিশ্বাস করছেন আপনি? এসিআই, ইস্পাহানি, মিমপেক্স- যাদের আপনারা অন্ধের মতো ভরসা করেন, তাদের আসল চেহারাটা বের হয়ে আসছে। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য, ভালো উৎপাদন বা বাম্পার ফলন পাওয়ার জন্য কৃষক যে পিজিআর বা হরমোন ব্যবহার করছেন, তা আসলে চরম ভেজাল ও নিম্নমানের। সরকার সারা দেশের বাজারগুলো থেকে নিয়মিত সার, বালাইনাশক ও পিজিআর (ভিটামিন) সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করে আসছে, আর সেই ল্যাব টেস্টের অফিসিয়াল ফলাফল দেখলে চোখ কপালে ওঠার মতো অবস্থা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে যেসব নামি-দামি কোম্পানির চটকদার বিজ্ঞাপন আর চকচকে প্যাকেট দেখে চোখ বন্ধ করে হাজার হাজার টাকা ঢালছি, ল্যাবের সরকারি পরীক্ষায় তাদের প্রতারণার রূপ উন্মোচিত হয়ে গেছে। তারা আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে নকল ও মানহীন উপাদান দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। কোনো কোনো পণ্যের কার্যকর উপাদান তো ল্যাব টেস্টে সরাসরি ‘নেগেটিভ’ বা শূন্য এসেছে, অর্থাৎ ভিটামিন বা হরমোনের নামে আপনারা স্রেফ বোতলজাত পানি বা অকেজো তরল কিনে জমিতে দিচ্ছেন। তা হলে কৃষকের স্বপ্ন যারা এভাবে প্রতি নিয়ত ধ্বংস করছে, তাদের কি কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত নয়? এই প্রতারণার কারণে দেশের অর্থনীতিতে কত বড় আঘাত আসছে তা কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি?

বালাইনাশক বা পিজিআর মানহীন হলে শুধু কৃষকের কষ্টার্জিত টাকাই নষ্ট হয় না, কৃষকের পুরো মৌসুমের ফসল মাটির সঙ্গে মিশে যায়, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা দেখতে চাই- বর্তমান সরকার এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এই সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কী দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়। 


যারা বছরের পর বছর ধরে সাধারণ কৃষকদের নিঃস্ব করেছে, ফসলের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে, তাদের অবিলম্বে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কৃষকদের পক্ষ থেকে আমরা এই করপোরেট মাফিয়াদের বিচার এবং কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখতে চাই। তাদের মিষ্টি কথায় ভুলে আমরা আর কত লোকসান দেব? আমরা আর কোনো আশ্বাস বা কাগুজে নির্দেশ দেখতে চাই না; দেখতে চাই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ। যারা বছরের পর বছর ধরে কৃষকদের নিঃস্ব করেছে, প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ কৃষকের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে এবং সোনার ফসলের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করেছে, তাদের প্রত্যেককে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সময়ের আলো/এসএকে



  বিষয়:   বিষ  কীটনাসক  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: