ভূমধ্যসাগরে খাবার-পানির অভাবে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি জমানোর সময় খাবার ও পানির অভাবে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। লিবিয়া থেকে

2026-08-17T08:12:30+00:00
2026-08-17T09:41:08+00:00
 
  সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
ভূমধ্যসাগরে খাবার-পানির অভাবে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১২ এএম  আপডেট: ১৭.০৮.২০২৬ ৯:৪১ এএম
অবৈধ পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছে অনেকে। সংগৃহীত ছবি
ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি জমানোর সময় খাবার ও পানির অভাবে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। একই বোট থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ১৮ জন এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

রোববার (১৬ আগস্ট) উপকূল থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা মিশরের পুলিশ ও গণমাধ্যমকে জানান, খাবার ও পানির অভাবে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা। 

গত ৩ আগস্ট রাতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে নৌকাটি। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নৌকায় থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর খাবার ও পানি ছাড়াই বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন তারা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটি সাগরে ভাসতে থাকে। এভাবে টানা নয় দিন ভেসে থাকার পর নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলাম। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আর সামনে এগোতে পারিনি। এ সময় আমাদের উদ্ধার করতে দালালের লোকজন কিংবা অন্য কোনো সংস্থা এগিয়ে আসেনি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল করিম আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। খাবার ও পানির অভাবে চোখের সামনেই ৯ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। পরে আরও দুজন মারা যান। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমরা এখন মারসা মাতরুহ হাসপাতালে ভর্তি আছি। এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং ভালো খাবারেরও ব্যবস্থা করছেন। আমাদের বাঁচান। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নৌকায় থাকা সুনামগঞ্জের ৮ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন দিরাই পৌরসভার ঘাগটিয়া গ্রামের সানোয়ার রহমান; জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু (২৫) ও গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ (২৪); শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা শত্রুমর্দনের গ্রামের হৃদয় পাল, চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া, মামুন খাঁন এবং রনসী গ্রামের মো. তালহা।

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফ ও স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের বাদরান নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। 

স্থানীয় পুলিশ দূতাবাসকে জানিয়েছে, তারা মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এর মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।

দূতাবাস আরও জানায়, হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আহত বাংলাদেশিরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।


নিখোঁজ যুবকদের বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল্লাহ বলেন, ‘গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে এলাকার কেউ নিখোঁজ হয়েছেন বলে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে আমাদের কেউ কিছু জানাননি।’

শান্তিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলার চারজন মিশরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া নিখোঁজের কোনো তথ্য জানা যায়নি।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ মার্চ লিবিয়া থেকে রাবারের বোটে করে ইউরোপের দেশ গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। জেলার ছাতক, জগন্নাথপুর, দিরাই ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন তারা। এ ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় দুটি মামলা হয়, যেখানে নয়জন দালালের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   ইউরোপ  যাওয়া  ভূমধ্যসাগর  বাংলাদেশি  মৃত্যু 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: