ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তা সবারই জানা। কিন্তু এরপরেও ধূমপায়ীদের দৈনন্দিন রুটিনে নিকোটিনের নির্ভরতা কাটানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সবচেয়ে ক্ষতিকর অভ্যাস হলো ঘুম থেকে উঠেই মুখ না ধুয়ে প্রথম সিগারেটটি ধরানো। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই অভ্যাসটি শরীরের অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সকালের প্রথম সিগারেটের পেছনের কারণ
রাতভর ঘুমানোর ফলে শরীরে বেশ কয়েক ঘণ্টা নিকোটিন প্রবেশ করে না। এ কারণে ঘুম ভাঙার পরই নিয়মিত ধূমপায়ীদের নিকোটিনের তীব্র টান বা আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঘুম থেকে ওঠার পরপরই সিগারেট খাওয়ার প্রবণতা কেবল একটি সাধারণ অভ্যাস নয়, বরং এটি নিকোটিনের ওপর তীব্র শারীরিক নির্ভরতার স্পষ্ট লক্ষণ।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম থেকে ওঠার কত দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রথম সিগারেট খাওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।
একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ঘুম ভাঙার ৩০ মিনিটের মধ্যে যারা প্রথম সিগারেট খান, তাদের ফুসফুসে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি ১ ঘণ্টার বেশি সময় পর ধূমপান করা ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে।
আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম থেকে ওঠার মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেও অনেকে প্রথম সিগারেট খেয়ে ফেলেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর মানে এই নয় যে সকালের সিগারেটটি অন্য সময়ের চেয়ে বেশি বিষাক্ত; বরং এটি প্রমাণ করে যে ওই ব্যক্তির শরীরে নিকোটিনের আসক্তি কতটা গভীরে শিকড় গেড়েছে।
হৃদ্যন্ত্রের ওপর তাৎক্ষণিক চাপ
সিগারেটের ধোঁয়া শরীরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই রক্তচাপ ও হৃদ্স্পন্দনের গতি বেড়ে যায়। নিয়মিত ধূমপানের অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের জটিল রোগসহ নানা ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে।
অনেকের মনে এই ভুল ধারণা রয়েছে যে, ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত মুখ ধুয়ে বা এক কাপ চা-কফি খেয়ে সিগারেট খেলে বুঝি এর ক্ষতি কমে যায়। বাস্তবে এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তামাকের ধোঁয়ায় থাকা শত শত ক্ষতিকর রাসায়নিকই মূলত সব ধরনের শারীরিক ক্ষতির মূল কারণ।
কম ধূমপান করলেও কি ঝুঁকি মুক্ত?
দিনে মাত্র কয়েকটি সিগারেট টানেন বলে নিজেকে নিরাপদ ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনি সারাদিনে কয়টি সিগারেট খাচ্ছেন তার পাশাপাশি দিনের প্রথম সিগারেটটি ঘুম থেকে ওঠার কতক্ষণ পর খাচ্ছেন, সেটিও আপনার আসক্তির মাত্রা পরিমাপের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার আধঘণ্টার মধ্যে নিয়মিত ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা শরীরের জন্য একটি বড় বিপদের সংকেত।
করণীয় কী?
শারীরিক এই ঝুঁকি এড়ানোর একমাত্র এবং সেরা উপায় হলো ধূমপান চিরতরে বর্জন করা। যাদের পক্ষে হুট করে ধূমপান ছেড়ে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তারা চাইলে চিকিৎসকের বা কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। এছাড়া কাউন্সেলিং ও নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির সাহায্য নিয়ে এই বদভ্যাস থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
তাই সকালের প্রথম সিগারেটটিকে নিছক একটি অভ্যাস বলে উড়িয়ে না দিয়ে, এটিকে নিকোটিন-নির্ভরতার মারাত্মক এক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত।
সময়ের আলো/জেডি