চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শিল্প, পরিবেশ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের তিন সচিবসহ ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনি ও আদালত অবমাননার নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
রোববার ( ১৭ আগস্ট) বেলার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাসলিমা ইসলাম এ নোটিশ পাঠান। এতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অবজ্ঞার অভিযোগ এনে ৩ দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ জানানোর আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায়, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।
আইনি নোটিশে অন্য বিবাদীরা হলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্সের সভাপতি মহসীন চৌধুরী এবং ফেরদৌস স্টিলের মালিক ফেরদৌস ওয়াহিদ।
বেলার অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইয়ার্ডটি কালো তালিকাভুক্ত দেশ থেকে জাহাজ আমদানি করেছে। সরকারি তদারকির অভাব এবং ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে একই ইয়ার্ডে বারবার মারাত্মক দুর্ঘটনা সত্ত্বেও সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া অপ্রশিক্ষিত শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ‘গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেট’ নিশ্চিত না করা এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না রাখা আদালত অবমাননার শামিল বলে বেলার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সংস্থাটি গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইয়ার্ডটি বন্ধ, লাইসেন্স বাতিল, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং পাসপোর্ট জব্দসহ মোট ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
সময়ের আলো/মহু