পুরুষের যৌনস্বাস্থ্য থেকে শুরু করে পেশি, হাড়ের শক্তি, বীর্য উৎপাদন ও সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতায় টেস্টোস্টেরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই হরমোনের মাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
৬০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ লো টেস্টোস্টেরন বা ‘লো-টি’ সমস্যায় আক্রান্ত হন। শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে:
১. যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া : হঠাৎ যৌন আগ্রহ বা লিবিডো কমে যাওয়া টেস্টোস্টেরন ঘাটতির অন্যতম পরিচিত লক্ষণ।
২. লিঙ্গোত্থানে সমস্যা : টেস্টোস্টেরন যৌন উত্তেজনা ও লিঙ্গোত্থানের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। তবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য কারণেও এ সমস্যা হতে পারে।
৩. চুল ও দাড়ি কমে যাওয়া : হরমোনের ঘাটতিতে মাথার পাশাপাশি শরীরের লোম ও মুখের দাড়ির বৃদ্ধিও কমতে পারে।
৪. হাড় দুর্বল হওয়া : টেস্টোস্টেরন হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখতে সাহায্য করে। মাত্রা কমে গেলে হাড় ভঙ্গুর হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৫. মেজাজে পরিবর্তন : খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগ কমে যাওয়া, অবসাদ বা বিষণ্নতার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
৬. ঘুমের সমস্যা : ঘুমের মান খারাপ হওয়া বা অনিদ্রার মতো সমস্যা লো-টির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
৭. পেশি ও শক্তি কমে যাওয়া : টেস্টোস্টেরন পেশির ভর ও শক্তি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। ঘাটতি হলে শরীর দুর্বল লাগতে পারে।
৮. ওজন ও শরীরে চর্বি বাড়া : হরমোনের মাত্রা কমে গেলে বিশেষ করে শরীরে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়তে পারে।
৯. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি : পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও সারাক্ষণ ক্লান্তি বা শক্তির ঘাটতি অনুভূত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
কী করবেন
নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা ধরে রাখতে সহায়ক। তবে শুধু উপসর্গ দেখে টেস্টোস্টেরন ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করতে হয়।
ঘাটতি নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনজেকশন, জেল, প্যাচ বা অন্যান্য চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসককে তা অবশ্যই জানাতে হবে, কারণ কিছু হরমোন চিকিৎসা উর্বরতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
একাধিক লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে কোনো হরমোন বা ওষুধ না খেয়ে ইউরোলজিস্ট বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সময়ের আলো/এমকে