কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে সেবা দিচ্ছেন মাত্র ৭ জন। চিকিৎসক সংকটের কারণে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ অপেক্ষা, অতিরিক্ত রোগীর চাপ আর চিকিৎসক স্বল্পতায় ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য বলছে, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে ৬টি পদই বর্তমানে শূন্য। কর্মরত চিকিৎসকদের মধ্যেও পাঁচজন বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনজন চিকিৎসক আছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বর্তমানে মাত্র সাতজন চিকিৎসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
ফলে অনুমোদিত জনবলের তুলনায় বাস্তবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে সামাল দিতে গিয়ে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপরও বাড়ছে অতিরিক্ত চাপ।
সংযুক্তিতে থাকা চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল অফিসার ডা. তাহমিনা চৌধুরী বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসিআর শাখায় দায়িত্ব পালন করছেন। মেডিকেল অফিসার ডা. নূর উদ্দিন খন্দকার রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা শাখায়। ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কর্মরত আছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ডা. টি এফ ফাহাদ নাছিফ ঢাকার নিটোরের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগে এবং ডা. অদ্বিতীয় ঘোষ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।
চিকিৎসক সংকটের প্রভাব শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সীমাবদ্ধ নয়। উপজেলার বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আরও পাঁচজন চিকিৎসককে বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ কাছাকাছি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সমুখী হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের শেষ পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে হচ্ছে। এতে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে চিকিৎসার অপেক্ষার সারি। অনেক অসুস্থ রোগী দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
হেসাখাল ইউনিয়নের পাটোয়ার গ্রামের আম্বিয়া বেগম (৫০) বলেন, সকাল ৯টায় হাসপাতালে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। পরে অন্যরা মাথায় পানি দিয়ে তাকে সুস্থ করেন।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, চিকিৎসকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সংযুক্তিতে থাকা চিকিৎসকদের সংযুক্তি বাতিল করে তাদের নাঙ্গলকোটে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভাগীয় পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সারোয়ার রেজা বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে চিকিৎসকদের সংযুক্তি দেওয়া হয়। তবে নাঙ্গলকোট থেকে যে সকল চিকিৎসক সংযুক্তিতে রয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে তাদের সংযুক্তির নির্দিষ্ট কারণ বলা যাচ্ছে না।
চিকিৎসক সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে নাঙ্গলকোটের বিপুলসংখ্যক মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা শূন্য পদে চিকিৎসক পদায়নের পাশাপাশি সংযুক্তিতে থাকা চিকিৎসকদের নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/আতা