টানা ভারী বর্ষণ ও অবৈধ দখলের কবলে পড়ে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে ভুলুয়া নদীর পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সৃষ্টি হয়েছে চরম কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। ঘরবাড়িতে পানি উঠে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নদীটি দ্রুত খনন ও অবৈধ দখলমুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
স্থানীয় পানিবন্দি বাসিন্দা শাহিদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেল জাল, বাঁশের বিন্দি আর রিং জাল দিয়ে নদীর পানি আটকে রাখা হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে ঘরবাড়ি ডুবে আছে, রান্না করাও যাচ্ছে না। পরিবারে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
আরেক বাসিন্দা মো. হোসেন অভিযোগ করেন, অসাধু উপায়ে মাছ শিকারের জন্য নদী আটকে দেওয়ায় আজ পুরো এলাকায় কৃত্রিম বন্যায় ভাসছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) লক্ষ্মীপুর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাসির হোসাইন জানান, খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। ভুলুয়া নদী খননের জন্য প্রাক্কলন প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।
এদিকে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাত উজ জামান আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভুলুয়া নদীর সব অবৈধ জাল ও স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে এসব না সরালে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই