আলীপুরে খাপড়াভাঙ্গা নদী দখলের অভিযোগ, স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরসংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে একটি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

2026-08-19T11:04:00+00:00
2026-08-19T11:04:00+00:00
 
  বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
আলীপুরে খাপড়াভাঙ্গা নদী দখলের অভিযোগ, স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৪ এএম 
খাপড়াভাঙ্গা নদী দখলের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। ছবি : সময়ের আলো
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরসংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে একটি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, খাপড়াভাঙ্গা নদীর তীরের সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর এই অভিযান চালানো হয়। অভিযانকালে সেখানে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণাধীন স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত কামাল বেপারীর দাবি, তাদের কার্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। নদীভাঙন থেকে তা রক্ষা করতেই সেখানে গাইডওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল; স্থায়ী কোনো স্থাপনা তৈরির উদ্দেশ্যে কাজটি করা হয়নি।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নদীর জায়গা দখল করে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক বলেন, ‘ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকারি জায়গা দখল বা স্থাপনা নির্মাণ করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’

আলীপুর-মহিপুর দেশের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অবতরণকেন্দ্র। এ এলাকার মৎস্য ব্যবসা, জেলেদের ট্রলার-নৌযান চলাচল এবং স্থানীয় অর্থনীতি খাপড়াভাঙ্গাসহ বিভিন্ন নদীপথের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। ফলে নদীর তীর দখল করে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরসংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গার বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরেই একশ্রেণির প্রভাবশালী দখলদারদের তৎপরতা চলছে। নদী দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ না হলে অচিরেই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে পানি নিষ্কাশন ও স্থানীয় মৎস্য কার্যক্রমেও।

উল্লেখ্য, আলীপুর-মহিপুর এলাকায় নদী দখল ও অবৈধ নির্মাণের ঘটনা নতুন নয়। ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শিববাড়িয়া নদীর দুই তীরে শত শত অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার চিত্র উঠে আসে। সে সময় দখলের কারণে নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় মাছ ধরার ট্রলার চলাচলেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালেও আলীপুর মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের নিকটবর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি শর্ত ভঙ্গ করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ ওঠে, যার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আলীপুর-মহিপুরের নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌপথ সচল রাখতে খাপড়াভাঙ্গাসহ অন্যান্য নদীর তীরবর্তী সরকারি জায়গা চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারি চালানো জরুরি। অবৈধ দখল রোধে শুধু একবারের অভিযান নয়, বরং নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উচ্ছেদ অভিযানকে স্থানীয়রা সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

সময়ের আলো/জোই



  বিষয়:   আলীপুর  খাপড়াভাঙ্গা নদী  দখলের অভিযোগ  স্থাপনা  গুঁড়িয়ে  প্রশাসন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: