কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী প্রবীণ জননেতা সতীশ চন্দ্র রায় আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মঙ্গলপুরের মোস্তফাবাদ গ্রামের নিজ বাসভবনে রাত ১০টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন সতীশ চন্দ্র রায়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার শেষকৃত্যের সময়সূচি পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে জানানো হবে।
এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ তার জন্মস্থান দিনাজপুরের বিরলে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রবীণ এই রাজনীতিক কৈশোরেই তৎকালীন ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৪ সালে বিএ পাস করার পর শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই দলের মনোনয়নে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সতীশ চন্দ্র রায়। এরপর ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে দিনাজপুর-২ আসন থেকে আবারও নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে জয়লাভ করেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দিনাজপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য হন। ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হয়ে সতীশ চন্দ্র রায় প্রথমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন এবং পরবর্তী সময়ে দুই দফায় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের সময় তাকে সভাপতিমণ্ডলী থেকে বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে রাখা হয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান সতীশ চন্দ্র রায়। জীবনের শেষ সময়ে তিনি নিজ জন্মস্থান বিরলের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
৪ বারের সংসদ সদস্য, দুই মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দিনাজপুরের বিরল-বোচাগঞ্জসহ বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছেন। তার মৃত্যুতে প্রবীণ এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান হলো।
সময়ের আলো/মহু